অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাটির ওপর দেখা গিয়েছিল ছোট্ট একটি উজ্জ্বল হলুদ বিন্দু। সেটিকে অনুসরণ করে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে বিশাল আকৃতির এক বিরল স্বর্ণখণ্ড। ওজন প্রায় ১ হাজার ২০০ গ্রাম! আর সংগ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হলে এই সোনার খণ্ডের দাম উঠতে পারে প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, এমনকি তারও বেশি। শৌখিন এক ধাতু অনুসন্ধানকারীর এই আবিষ্কার এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টিবুবুরার মাউন্ট স্টুয়ার্ট স্টেশন এলাকায় এই স্বর্ণখণ্ডের সন্ধান পাওয়া যায়। মূল্যবান ধাতুর খোঁজে সেখানে কয়েক দিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু শুরুতে তাঁর অনুসন্ধান খুব একটা সফল হচ্ছিল না। ধাতু শনাক্তকরণ যন্ত্রে বারবার ধরা পড়ছিল মরিচা ধরা পেরেক, ঘোড়ার খুরের নাল এবং সিসার গুলির মতো পরিত্যক্ত জিনিস। একের পর এক এমন বস্তু পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছিলেন তিনি।
এর মধ্যেই মাটির স্তরে চোখে পড়ে ক্ষুদ্র একটি হলুদ আভা। কৌতূহলী হয়ে সেই জায়গার মাটি সাবধানে সরাতেই বেরিয়ে আসে কোয়ার্টজ পাথরের সঙ্গে মিশে থাকা বড় একটি স্বর্ণখণ্ড। বহুক্ষণ ধরে চলা অনুসন্ধানের পর এমন মূল্যবান সম্পদ পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেননি তিনি। উদ্ধারের মুহূর্তটি ভিডিওতেও ধারণ করেন ওই অনুসন্ধানকারী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, প্রথমে যন্ত্রে দুর্বল সংকেত পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু মাটির প্রায় চার ইঞ্চি গভীরে খনন করার পর সংকেত আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এরপর প্রথম বা দ্বিতীয় দফায় মাটি সরাতেই দেখা মেলে সেই উজ্জ্বল হলুদ অংশের। পরবর্তী সময়ে ‘টিবুবুরা স্পাড’ নামে পরিচিতি পাওয়া স্বর্ণখণ্ডটির ওজন দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ২ কেজি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এতে রয়েছে প্রায় ৯৪০ গ্রাম খাঁটি সোনা। অর্থাৎ পুরো খণ্ডটির ওজনের বড় একটি অংশই মূল্যবান এই ধাতু।
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু সোনার ধাতুগত মূল্য বিবেচনা করলেও খণ্ডটির দাম হতে পারে প্রায় দেড় লাখ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা আনুমানিক ১ কোটি ৮৬ লাখ থেকে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। তবে এখানেই শেষ নয়। বিরল প্রাকৃতিক স্বর্ণখণ্ড হিসেবে সংগ্রাহকদের কাছে এর আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। সে কারণে সাধারণ সোনার বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সংগ্রাহকের কাছে বিক্রি করা গেলে এর মূল্য ২ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। একটি ক্ষুদ্র হলুদ বিন্দু থেকে শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত এনে দিয়েছে বিপুল মূল্যবান সম্পদ। তবে এই আবিষ্কারের আসল আকর্ষণ শুধু এর দাম নয়, বরং প্রকৃতির ভেতরে লুকিয়ে থাকা এমন বিরল স্বর্ণখণ্ডের সন্ধান পাওয়া।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন