সোনার দামে আবারও বড় পরিবর্তন! চার হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়াল বিশ্ববাজার। কিন্তু এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কি সোনার দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্তেই বদলে যেতে পারে পুরো বাজারের চিত্র?
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। আর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতুর বাজারে। সোমবার, ২৬ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ১৪ ডলার ৪৯ সেন্টে পৌঁছেছে। এর আগে গত শুক্রবার বড় দরপতনের কারণে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে এসেছিল তিন হাজার ৯৭৫ ডলারে, যা ছিল ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
শুধু স্পট মার্কেটেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সরবরাহভিত্তিক বাজারেও সোনার দাম বেড়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের চুক্তিতে থাকা সোনার দাম শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ২৮ ডলার ৪০ সেন্টে লেনদেন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের পর চার হাজার ডলারের কাছাকাছি দামকে অনেক বিনিয়োগকারী সোনা কেনার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভোর মতে, অতীতেও এই দামের আশপাশে পৌঁছালে সোনার প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে সামনে সোনা কেনার প্রবণতা আরও জোরালো হতে পারে।
তবে সোনার বাজারে স্বস্তির পাশাপাশি রয়েছে বড় অনিশ্চয়তাও। জ্বালানি তেলের দাম কমে আসা সোনার মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়তা করলেও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক রাখছে। চলতি সপ্তাহের বুধবার ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এ বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা মাত্র ৯ শতাংশ। তবে আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
সুদের হার বাড়লে সোনার বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ, সোনা কোনো সুদ দেয় না। অন্যদিকে সুদহার বাড়লে সুদযুক্ত বিনিয়োগ থেকে আয় করার সুযোগ বাড়ে। এতে বড় বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনার আকর্ষণ কমে যেতে পারে এবং দাম আবারও নিম্নমুখী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে, চার হাজার ডলারের সীমা পেরিয়ে সোনার ঘুরে দাঁড়ানো বাজারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কিন্তু এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং আগামী দিনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। তাই সোনার বাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের নজর শুধু দামের দিকে নয়, ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন