লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে—একদিকে ফুটবলের দুই প্রজন্মের তারকা, অন্যদিকে গোলের পর গোল করে ইতিহাস গড়া এক ইংলিশ স্ট্রাইকার। শেষ পর্যন্ত সবাইকে পেছনে ফেলে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর নিজের করে নিলেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ক্যারিয়ারে প্রথমবার এই সম্মান পেলেন ইংল্যান্ডের এই তারকা। তাঁর এই অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও কোনো ইংলিশ পুরুষ ফুটবলারের হাতে উঠল ব্যালন ডি’অর।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর রাতে লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গত মৌসুমে গোলের পর গোল করে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক সাফল্যই তাঁকে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে রাখে। পরিসংখ্যানেও ছিল তাঁর আধিপত্য। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোল করেন কেইন। এর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৬১। এক মৌসুমে বায়ার্নের অন্য কোনো খেলোয়াড় এত গোল করতে পারেননি। ব্যক্তিগত এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অবদান রাখেন তিনি।
ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে এবং বায়ার্ন মিউনিখকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই স্ট্রাইকার। গোল করার দক্ষতা, ধারাবাহিকতা এবং দলের প্রয়োজনে কার্যকর ভূমিকা—সব মিলিয়ে তাঁর মৌসুমটি ছিল স্মরণীয়। পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কেইন। মঞ্চে উঠে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘বাহ, বাহ, বাহ।’ এরপর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, তিনি প্রায় বাকরুদ্ধ। লন্ডনে এই আয়োজন হওয়ায় তাঁর কাছে মুহূর্তটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে। রাতটিকে নিজের জন্য শুভ বার্তা নিয়ে আসা একটি স্মরণীয় সময় হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কেইন। তাঁর মতে, এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের সঙ্গে লড়াই করাটা ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব বিজয়ী ও মনোনীত খেলোয়াড়কেও অভিনন্দন জানান তিনি। একই সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই একজন খেলোয়াড়কে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। এবারের পুরস্কারের দৌড়ে কেইনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁদের পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জিতে নেন ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার।
সব মিলিয়ে হ্যারি কেইনের প্রথম ব্যালন ডি’অর জয় তাঁর দীর্ঘ ফুটবলজীবনের অন্যতম বড় অর্জন। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি এই পুরস্কার ইংলিশ ফুটবলের জন্যও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘ ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডের কোনো পুরুষ খেলোয়াড়ের হাতে আবারও এই সম্মান ওঠায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশটির ফুটবল।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন