সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটার আগেই আকাশে সেগুলো ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন প্রতিহত করার এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। একদিকে চলছে সামরিক পাল্টাপাল্টি তৎপরতা, অন্যদিকে সংঘাত কমাতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে চলছে কূটনৈতিক আলোচনা। তাহলে কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে?
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, গালফ নিউজের সরাসরি প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে এগিয়ে যাচ্ছিল। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া হয় চারটি ড্রোন। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। জোটের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো উত্তেজনা প্রশমনের পথ খুঁজছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ওমান ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। এ ধরনের চুক্তি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো সংলাপ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরাকের উপকূলের কাছে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। তবে ওই অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কা, অন্যদিকে অনাক্রমণ চুক্তি ও কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ—এই দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই রয়েছে পুরো অঞ্চল। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কূটনৈতিক উদ্যোগ কি সামরিক উত্তেজনা কমাতে পারবে, নাকি নতুন কোনো সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে?
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন