ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প ৭৫ বছর ছাঁটাই ছাড়াই চলছে কোম্পানিটি, পরিচালনা পদ্ধতি দেখতে ভিড় সিইওদের রোনালদোর ৯৮২তম গোল নিয়ে তৈরি বিতর্কের অবসান প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তড়িঘড়ি সংস্কার, ৭ দিনও টিকল না সড়ক ফ্রান্সে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ১০০০ সাদামাটা ‘শিউলি সন্ধ্যা’য় পরীমণির জন্মদিন উদযাপন চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে মজুত ১৫০০ বস্তা সার জব্দ, গোডাউন সিলগালা সন্তানের পাশের রুমেই পড়ে ছিল মায়ের মরদেহ, তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে উদ্ধার করে পুলিশ এভারটনকে হারিয়ে ম্যানসিটিকে ধরে ফেললো আর্সেনাল ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ফ্রান্সে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ১০০০

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, সরকারি পরিষেবায় দেখা দিচ্ছে সংকট, আর এসবের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছেন লাখ লাখ মানুষ। পরিস্থিতি
  • আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৫ সময়
  • আপডেট সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৫ সময়
ফ্রান্সে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ১০০০

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, সরকারি পরিষেবায় দেখা দিচ্ছে সংকট, আর এসবের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছেন লাখ লাখ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য। কিন্তু কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও থামাতে পারেনি বিক্ষোভকারীদের। শনিবার, ২৪ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ। পুলিশের হিসাবে, দেশজুড়ে এতে অংশ নেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং গ্রেপ্তারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।


ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে এক লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, সারা দেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট লাখ। তাদের হিসাবে, শুধু প্যারিসেই অংশ নেন আড়াই লাখ মানুষ। অর্থাৎ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর হিসাবে বড় পার্থক্য রয়েছে। এই আন্দোলনে শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, অংশ নিয়েছেন শ্রমিক, পেশাজীবী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার সংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকস্বল্পতা এবং বিদ্যালয়গুলোর জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই আন্দোলনের বিস্তার ঘটেছে।


গত মাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ এতে যোগ দেন। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে কয়েকটি শহরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো।


শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে আগেই বড় ধরনের প্রস্তুতি নেয় ফরাসি সরকার। দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান, জলকামান এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়। প্যারিসের বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তার কারণে ল্যুভর ও ওরসে জাদুঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখার পাশাপাশি মূল্যবান পণ্যের দোকানগুলোর কাচ সুরক্ষিত করা হয়। তবে এত নিরাপত্তার মধ্যেও প্যারিস, মার্সেই, লিঁও, নিস, তুলুজ ও বোর্দোসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। কয়েকটি স্থানে দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবরও পাওয়া গেছে।


ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শনিবারের বিক্ষোভে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। আগের সপ্তাহের বিক্ষোভে আটক করা হয়েছিল ৩৮৫ জনকে। তবে তাঁর দাবি, এবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা আগের তুলনায় কম হয়েছে। এদিকে, বিক্ষোভের উত্তাপ ফ্রান্সের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির নেপলস, রোম ও মিলান শহরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছেন। অন্যদিকে, আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


ফ্রান্সে চলমান আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। কট্টর বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ সতর্ক করেছেন, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বিক্ষোভকারীদের দাবিতে সাড়া না দিলে আগামী ৫ নভেম্বর দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট হতে পারে। সব মিলিয়ে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ এখন ফ্রান্সের বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা, ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরও আন্দোলন থামেনি। এখন দেখার বিষয়, সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারে, নাকি আগামী দিনগুলোতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে ইউরোপের পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টঙ্গীতে শিশুকন্যাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক আটক, থানায় দুই পক্ষের মামলা

টঙ্গীতে শিশুকন্যাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক আটক, থানায় দুই পক্ষের মামলা