গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা—এই তিন দাবিতে নতুন করে সরব হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তিতে দলটির এই অবস্থান দেশের সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন প্রশ্ন, এনসিপির দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কী পদক্ষেপ নেয়?
শনিবার, ১৭ অক্টোবর বিকেলে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরে দলটি। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের গণভোটে দেওয়া রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে আর বিলম্ব করা উচিত নয়।
এনসিপির দ্বিতীয় দাবি, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। দলটির মতে, সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এই পরিষদ গঠন জরুরি। তৃতীয় দাবির ক্ষেত্রে এনসিপি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তারা অংশ নেবে না। এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন আখতার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক। এনসিপির এই তিন দফা দাবির মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির কাঠামো নিয়ে দলটির অবস্থান সামনে এসেছে। তবে এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংবিধান সংস্কারের পরবর্তী প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়, তা এখন দেখার বিষয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন