ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এবার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার ভেতরেই তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। ব্যর্থ বাণিজ্যিক উদ্যোগ, স্বচ্ছতার অভাব, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের শাস্তি প্রত্যাহার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া শান্তি পুরস্কার—একাধিক বিতর্কে চাপে পড়েছেন তিনি। এমনকি ইউরোপীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের কেউ কেউ আগামী বছরের সভাপতি নির্বাচনে তাঁর বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর কথাও ভাবছেন। গত বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে এসব বিতর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে ব্যর্থ একটি উদ্যোগের জন্য কাউন্সিল সদস্যদের কাছে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। তবে তাঁর ক্ষমা চাওয়ার পরও অসন্তোষ কাটেনি।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প। কাউন্সিল সদস্যদের সঙ্গে আগে আলোচনা না করেই উদ্যোগটি সামনে আনার কারণে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। কিন্তু প্রকল্পটির আর্থিক কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বৈঠকে দুই মার্কিন আইনজীবী প্রকল্পটির পক্ষে উপস্থাপনা দেন। পরে জানা যায়, প্রকল্পটি পর্যালোচনা করার জন্য ফিফাই তাঁদের নিয়োগ করেছিল। ফলে তাঁদের স্বাধীনতা ও উপস্থাপনার যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।
আরেকটি বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে। বিশ্বকাপে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর তাঁর শাস্তি বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তদবিরের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন ফিফা কাউন্সিলের সদস্যরা। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো সামনে আসেনি। ভবিষ্যতে লাল কার্ডের পর শাস্তি বাতিলের সুযোগ সীমিত করতে ফিফার শৃঙ্খলাবিধি সংশোধনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। তবে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর দোহায় অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইনফান্তিনো।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার। গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো ট্রাম্পের হাতে পুরস্কারের ট্রফি, পদক ও সনদ তুলে দেন। কিন্তু পুরস্কারপ্রাপক নির্বাচনের প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে প্রকাশ না করায় ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কাউন্সিলের কেউ কেউ পুরস্কারটি বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার কেউ পুরস্কারের উদ্দেশ্য ও বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নতুন করে নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। পুরস্কারের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ সীমিত করা এবং বিজয়ী নির্বাচনে কঠোর মানদণ্ড চালুর বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
বিষয়টি ফিফার ফুটবল ও সামাজিক দায়বদ্ধতাবিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের বৈঠকের আগে কমিটিকে সুপারিশ জমা দিতে হবে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক নেতাকে এমন পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ফিফার ভেতরে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। আগামী বছরের সভাপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ডিসেম্বরের বৈঠকে তিনি সমালোচকদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেন কি না, নাকি তাঁর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ আরও জোরালো হয়ে বিকল্প প্রার্থী সামনে আনার উদ্যোগে রূপ নেয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন