ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে আকাশে ভাসবে টেসলার নতুন রোডস্টার, আনলেন ইলন মাস্ক 'ইন্ডিয়া' জোটের রাজপথের আন্দোলনে থালাপতি বিজয়ের দল শারদীয় দুর্গাপূজায় দেশ-বিদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের প্রাণহানি, নতুন রোগী ভর্তি ১১৮১ জন রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম চড়া, স্বস্তি নেই মাছ ও মুরগিতেও দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হবে: অর্থমন্ত্রী পূজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেই কঠোর ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী পুতুল সিরাজগঞ্জে ট্রাকের গতিরোধ করে গ্যাস সিলিন্ডার লুট মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত

হুথিদের দাপটে কোণঠাসা সৌদি, মার্কিন অস্ত্রেও মিলছে না সুরক্ষা

বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা—সবই রয়েছে সৌদি আরবের হাতে।
  • আপলোড সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:৭ সময়
  • আপডেট সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:৭ সময়
হুথিদের দাপটে কোণঠাসা সৌদি, মার্কিন অস্ত্রেও মিলছে না সুরক্ষা

বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা—সবই রয়েছে সৌদি আরবের হাতে। তবু ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে কেন বারবার চাপে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী এই দেশ? রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর প্রশ্ন উঠছে, সৌদি আরবের বিশাল সামরিক শক্তির কোথায় দুর্বলতা রয়ে গেছে? আর এই পরিস্থিতিতে দেশটি কি একাই হুথিদের মোকাবিলা করতে পারবে, নাকি শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে?


স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে সৌদি আরব। বিশ্বের সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়কারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটি। তাদের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম। কিন্তু এত কিছু থাকার পরও দেশটির সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হামলার ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখা যাচ্ছে না।


এর বড় কারণ সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ড এবং একাধিক দিক থেকে আসা হুমকি। পূর্ব দিকে ইরান, দক্ষিণে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এবং উত্তরে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরের সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে ইরান সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে।


সৌদি আরবের জন্য চ্যালেঞ্জটি শুধু রাজধানী রিয়াদ কিংবা একটি তেল শোধনাগার রক্ষা করা নয়। বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, পাইপলাইনসহ বিস্তীর্ণ এলাকার অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে হয়। আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন শনাক্ত করার পর সেটি প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নিতে খুব অল্প সময় পাওয়া যায়। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী অনেক হামলা ঠেকাতে পারলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে সীমিত প্রতিরক্ষাসম্পদ কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।


আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, হুথিদের হামলার কৌশল ক্রমেই জটিল হচ্ছে। তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়তে পারে, ফলে রাডারে শনাক্ত করা এবং গতিপথ অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। হুথিরা তাদের কিছু নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে বলেও দাবি করেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের হাটেম-২ ও প্যালেস্টাইন-২ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানের তৈরি অস্ত্রের মিল রয়েছে। এসব অস্ত্র দ্রুতগতিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করা হয়। এর আগে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হেনেছিল। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের এমন নির্ভুলতা বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছিল।


তবে হুথিরা শুধু ইরানের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য রয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের সময় ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়। সেই সংঘাতের ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটেনি।


গত জুলাইয়ে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ার পর হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে সৌদি আরব যে বিমান হামলা চালাচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে কয়েক শ কোটি ডলারও দাবি করছে তারা। ফলে এই সংঘাতের পেছনে সামরিক হিসাবের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


এদিকে হুথিদের হামলা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক মিত্ররা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে এবং মিশরও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে রিয়াদ।


কিন্তু এখানেও রয়েছে বড় বাধা। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে গেছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি।


সব মিলিয়ে সৌদি আরব এখন কঠিন এক নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। একদিকে হুথিদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, অন্যদিকে বিশাল ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষার চাপ—সবকিছু সামাল দিতে হচ্ছে রিয়াদকে। এখন বড় প্রশ্ন, সৌদি আরব কি সামরিক শক্তি বাড়িয়ে এই হুমকি মোকাবিলা করবে, নাকি হুথিদের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটবে? কারণ শুধু আরও অস্ত্র কিনলেই যে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, বর্তমান পরিস্থিতি যেন সেই ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন স্কেলের বেতন পেতে বিলম্বের আশঙ্কা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন স্কেলের বেতন পেতে বিলম্বের আশঙ্কা