ইলন মাস্কের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ এই সেবাকে ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, শত্রুপক্ষ গুপ্তচরবৃত্তি, সামরিক নির্দেশনা প্রদান এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের কাজে এটি ব্যবহার করছে। ফলে ইরানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় সাইবার পরিসর পরিষদের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামি জানিয়েছেন, স্টারলিংকের সংযোগ ব্যাহত করার মতো একাধিক ব্যবস্থা দেশটির কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। তাঁর দাবি, এই ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধরনের গোপন যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে স্টারলিংকের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ইরানে স্টারলিংক ব্যবহার করা কিংবা নিজের কাছে রাখার দায়ে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এই সেবার যন্ত্রাংশ আমদানি অথবা বিতরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ, দেশটিতে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি এর সরঞ্জাম সরবরাহকারীরাও কঠোর আইনি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। চলতি বছর ইরানে একাধিকবার দীর্ঘ সময়ের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে টানা ৮৮ দিন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং অনলাইন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এদিকে, সরকারি নজরদারি ও সেন্সরশিপ এড়িয়ে যোগাযোগ বজায় রাখতে ইরানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তবে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে, ইরানে স্টারলিংক ঘিরে সরকারের কঠোর অবস্থান দেশটির ইন্টারনেট স্বাধীনতা, তথ্যপ্রবাহ এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে কর্তৃপক্ষ এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে সেন্সরশিপের বাইরে যোগাযোগের সুযোগ খুঁজছেন অনেক ব্যবহারকারী।
সূত্র: আলজাজিরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন