ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে হবে এবং জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হতে হবে। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। রাহুলের ভাষায়, এটি শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার লড়াই।
সোমবার, ১২ অক্টোবর, দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বক্তব্য দেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার চাপে রয়েছেন এবং তাঁর এখন রাজসাক্ষী হওয়া উচিত। রাহুলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কী কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি—এমন আলোচনা মূল বিষয় নয়। তাঁর দাবি, প্রধান বিচারপতি তাঁদের আবেদন জমা দেওয়ার পথ দেখিয়েছেন। সেই অনুযায়ী, সোমবার বিকেলেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানান তিনি। এই আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলের মানুষের এগিয়ে আসা উচিত। তিনি আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন থামবে না।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নিজের অভিযোগের প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল ও গৌতম আদানির নাম উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, তাঁদের চাপের কারণেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এগুলোকে রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে কংগ্রেস নেতা বলেন, প্রথমে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অনুমতি পাননি বলে তাঁর দাবি। এরপর গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। পরদিন যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান তিনি। পরে রাজঘাটে প্রার্থনা করেন আন্দোলনকারীরা। এবার তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার পথে এগোচ্ছেন।
দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক পুলিশ সদস্য ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং তাঁদের একটি অংশ আন্দোলন চলতে দেওয়ার পক্ষে। তবে পুলিশ সদস্যদের মনোভাব নিয়ে তাঁর এই দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও দাবি করেন রাহুল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই দাবিরও স্বাধীন যাচাই প্রতিবেদনে নেই।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের পথ কঠিন হলেও তাঁরা পিছু হটবেন না। ভবিষ্যতের কর্মসূচি পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি। আগে থেকে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়নি বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উল্লেখ করেন কংগ্রেস নেতা।
সব মিলিয়ে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের আন্দোলন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। একদিকে রাজপথের কর্মসূচি, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন—দুই পথেই এগোনোর কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তাদের যোগাযোগের দাবি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন