হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ল! অনুমোদিত পথ ছেড়ে অন্য পথে যাওয়ার সময় সামুদ্রিক মাইনে আঘাত লেগে ভয়াবহ আগুনে পুড়েছে আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার। জাহাজটিতে ছিল সাড়ে সাত লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একই ধরনের আরেকটি ঘটনার পর নতুন এই বিস্ফোরণ গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার, ১২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সামুদ্রিক শাখার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার বিকেলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালিতে নির্ধারিত ও অনুমোদিত পথ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় জাহাজটি সামুদ্রিক মাইনের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ট্যাংকারটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ইরানের সামুদ্রিক বাহিনীর দাবি, জাহাজটি আগে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে অননুমোদিত পথে চলাচল করছিল। তবে এই ঘটনায় জাহাজের কতজন কর্মী আহত বা নিহত হয়েছেন, কিংবা আগুনের কারণে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগের দিন, অর্থাৎ শনিবারও হরমুজ প্রণালিতে একই ধরনের আরেকটি বড় তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ওই জাহাজটিও অনুমোদিত পথ এড়িয়ে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে ইরানের সামুদ্রিক বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। আরও বলা হয়েছে, ঘটনার আগে জাহাজটির নেভিগেশন ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। জাহাজটিতে আগুন লাগার পর উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা বিশাল অগ্নিশিখা দেখতে পান।
পরপর দুই দিনে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, নতুন ঘটনার পর কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সামুদ্রিক শাখা। তাদের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাবিধি অমান্য করে যেসব জাহাজ নিজেদের নেভিগেশন ও পরিচয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখবে, সেগুলোকে শত্রুভাবাপন্ন হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এ ধরনের জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সামুদ্রিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, প্রণালির নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। অন্যথায় তেলবাহী জাহাজগুলোকে গুরুতর বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে দুটি ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনার বিষয়ে ইরানের দাবির বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে পরপর দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। এখন বড় প্রশ্ন, জাহাজ চলাচলে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে, নাকি নিরাপত্তাবিধি কঠোর করার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন