মায়ের জানাজায় অংশ নিতে কারাগার থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টার জন্য বের হওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন সাফিন আহমেদ সুমন। কিন্তু সেই অল্প সময়টুকুও কেটেছে হাতকড়ায়। মায়ের শেষ বিদায়ে ছেলের এমন উপস্থিতিতে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বরিশালের পরিবেশ। শনিবার দুপুরে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সাফিন আহমেদ সুমন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, সুমন নগরীর কাউনিয়া প্রথম গলির বাঁশতলা এলাকার নুর হাওলাদারের ছেলে। তার মা তাছলিমা বেগম শুক্রবার দিবাগত রাতে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বজনদের পক্ষ থেকে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেড় ঘণ্টার জন্য তাকে কারাগার থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। শনিবার দুপুর ২টার দিকে সুমনকে হাতকড়া পরা অবস্থায় কাউনিয়া প্রথম গলির নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন তিনি। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনজিত চন্দ্র নাথ জানান, জানাজা ও দাফন শেষে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুমনকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মায়ের শেষ বিদায়ের এই আবেগঘন মুহূর্তের পেছনে রয়েছে একটি মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা। গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ২টার দিকে বরিশাল নগরীর চাঁদমারী এলাকায় ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল করার অভিযোগে সাফিন আহমেদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস এম রায়হান আজাদ। মামলায় সুমনকে করা হয়েছে এক নম্বর আসামি। মামলার কারণে কারাগারে থাকা অবস্থাতেই মায়ের মৃত্যুর খবর পান সুমন। এরপর স্বজনদের আবেদনে সাময়িকভাবে কারাগারের বাইরে আসার সুযোগ মিললেও, মায়ের জানাজা ও দাফনের পুরো সময়টুকু কাটাতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে। দেড় ঘণ্টা পর আবারও তাকে ফিরতে হয়েছে কারাগারে—মায়ের শেষ বিদায়ের ভারী স্মৃতি নিয়েই।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন