ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
শুল্কের চাপে দুর্বল দেশকে পণ্য কিনতে বাধ্য করছে যুক্তরাষ্ট্র: রেহমান সোবহান মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করছেন টেনেসির কারাপ্রধান নভেম্বরে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা হবে: বিমানমন্ত্রী ফজরের ২ রাকাত সুন্নত ছুটে গেলে করণীয় অনিয়মের তদন্ত হলেও প্রতিবেদন দাখিল হয়নি ৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা কতটা বাস্তবসম্মত, নাকি শুধু খরচ বৃদ্ধি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি দামে অনিয়ম, অভিযানে ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরছে বিপজ্জনক রাসায়নিকের ৯ কন্টেইনার, ধ্বংস করতে কোথায় নেওয়া হচ্ছে বুরকিনা ফাসোকে ৭ গোলে ভাসাল আর্জেন্টিনা ক্রোয়েশিয়ার জালে ইংল্যান্ডের ৭ গোল

উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা কতটা বাস্তবসম্মত, নাকি শুধু খরচ বৃদ্ধি

একটি সংসদ, নাকি দুই কক্ষের সংসদ—বাংলাদেশের আইনসভা নিয়ে এই প্রশ্নই এখন নতুন করে আলোচনায়। জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট
  • আপলোড সময় : ৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৭ সময়
  • আপডেট সময় : ৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৭ সময়
উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা কতটা বাস্তবসম্মত, নাকি শুধু খরচ বৃদ্ধি

একটি সংসদ, নাকি দুই কক্ষের সংসদ—বাংলাদেশের আইনসভা নিয়ে এই প্রশ্নই এখন নতুন করে আলোচনায়। জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনে ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়ে সই করলেও, সম্প্রতি সংবিধান সংশোধন নিয়ে মতবিনিময়ে উঠে এসেছে ভিন্ন বাস্তবতার প্রশ্ন। বাংলাদেশে আদৌ উচ্চকক্ষের প্রয়োজন আছে কি না, আর থাকলেও সেটি কতটা কার্যকর ও বাস্তবসম্মত হবে—এখন সেই বিষয়েই নতুন করে চিন্তাভাবনার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। জুলাই জাতীয় সনদের আইনসভা অংশে বলা হয়েছে, সংবিধানে যুক্ত করা হবে যে বাংলাদেশে একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকবে। এর একটি হবে নিম্নকক্ষ, অর্থাৎ জাতীয় সংসদ, আর অন্যটি হবে উচ্চকক্ষ বা সিনেট। বিএনপিসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট এই প্রস্তাবে ঐকমত্যে পৌঁছে সনদে স্বাক্ষর করেছে।


তবে শুরু থেকেই সবাই এতে একমত ছিল না। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দল ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট দেয়। তাদের বক্তব্য ছিল, বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশের উচ্চকক্ষের প্রয়োজন নেই। এই মতপার্থক্যের বিষয়টি জুলাই সনদেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট যদি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে, তাহলে তারা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।


অন্যদিকে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি এবং নির্বাচনি ইশতেহারেও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ফলে দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে। তবে সম্প্রতি সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির দুটি মতবিনিময়ে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেউ কেউ জানতে চান, বাংলাদেশের মতো একক রাষ্ট্রব্যবস্থার দেশে দুই কক্ষের সংসদ আদৌ কতটা প্রয়োজনীয়। আবার উচ্চকক্ষ গঠন করলে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়বে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন অনেকে।


এই আলোচনায় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে বিএনপি জুলাই সনদে একমত হয়েছে এবং নির্বাচনি ইশতেহারেও এর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে নতুন করে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি নিয়ে আবারও চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে বলেও তিনি জানান। উচ্চকক্ষের ক্ষমতা নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক। জুলাই সনদে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের বিলও উচ্চকক্ষে যাবে। এ বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে। তাদের যুক্তি, উচ্চকক্ষের সদস্যরা যদি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হন, তাহলে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল তাদের কাছে যাওয়ার বিষয়টি সমীচীন নয়।


তবে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে একটি যুক্তিও রয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অভিজ্ঞ ও দক্ষ মানুষকে সংসদে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। যারা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন, তাদেরও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা সম্ভব হবে। জুলাই সনদে উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ জন। প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের নির্বাচনে পাওয়া ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হবেন। তবে বিএনপিসহ সাতটি দল ও জোট এ পদ্ধতিতেও ভিন্নমত দিয়েছে। তাদের প্রস্তাব হলো, নিম্নকক্ষে পাওয়া ভোটের অনুপাত নয়, বরং প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হওয়া উচিত।


দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের ধারণার মূল উদ্দেশ্য হলো আইন প্রণয়নে অতিরিক্ত একটি পর্যালোচনার স্তর তৈরি করা। নিম্নকক্ষে কোনো বিল দ্রুত পাস হয়ে গেলে উচ্চকক্ষ সেটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের একচ্ছত্র প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চকক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে।


তবে শুধু উচ্চকক্ষ তৈরি করলেই সংসদে ভারসাম্য নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে, সদস্যরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন এবং তাদের হাতে ঠিক কতটা ক্ষমতা থাকবে—এসব বিষয়ই নির্ধারণ করবে এটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে। জুলাই সনদে উচ্চকক্ষের ক্ষমতা মূলত সংবিধান সংশোধনের বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হয়েছে। এর বাইরে বিল পর্যালোচনা, সাময়িকভাবে বিল আটকে রাখা কিংবা সুপারিশ করার মতো সুযোগ থাকলেও ক্ষমতার পরিধি তুলনামূলকভাবে সীমিত।


এখন বিশেষ কমিটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব সামনে রেখেই এগোতে চায়। তবে সংসদে সংবিধান সংশোধনের বিল ওঠার পর রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ফলে বাংলাদেশে সত্যিই ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, নাকি বর্তমান এককক্ষের সংসদ ব্যবস্থাই বহাল থাকবে—সেটিই এখন সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা

পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা