ঢাকা | |

গুলশান-ধানমণ্ডি- নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর অভিজাত এলাকার লেকগুলোতে আর যেন পয়ঃবর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ঢুকে দূষণ ছড়াতে না পারে—এবার এ নিয়ে কঠোরভাবে নড়েচড়ে
  • আপলোড সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৪২ সময়
  • আপডেট সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৪২ সময়
গুলশান-ধানমণ্ডি- নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর অভিজাত এলাকার লেকগুলোতে আর যেন পয়ঃবর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ঢুকে দূষণ ছড়াতে না পারে—এবার এ নিয়ে কঠোরভাবে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন থেকে ধানমণ্ডি লেক—সবগুলো জলাশয়ের দূষণ বন্ধে একসঙ্গে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


বৈঠকে উঠে আসে, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের ছয়টি প্রাথমিক ও ছয়টি মাধ্যমিক পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পথ দিয়ে নিয়মিত দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য লেকে ঢুকছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরে। লেকের দূষণ ঠেকাতে প্রথমেই পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবনভিত্তিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন কিংবা লেকের সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, সেটিও শনাক্ত করা হবে। অবৈধ সংযোগ পাওয়া গেলে তা বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়েছে। লেকের ভাসমান ময়লা পরিষ্কারেও আসছে বড় পরিবর্তন। বর্তমানে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে দুটি যান্ত্রিক নৌকা কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছেন।


শুধু পানির ওপরের ময়লা নয়, লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজও অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য ভাসমান এক্সক্যাভেটর ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লেকের পানির মান উন্নত করতে পানিতে অক্সিজেন বাড়ানোর জন্য এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী যেসব ভবনে এসটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক, সেসব ভবনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ধানমণ্ডি লেক নিয়েও বৈঠকে আলাদা করে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে লেকটির সংস্কার, স্লাজ অপসারণ এবং চলমান পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।


অন্যদিকে রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে ৪২ জন জনবল নিয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম কাজ করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। অর্থাৎ শুধু একটি লেক নয়, রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়ের দূষণ বন্ধে এবার সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী