ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ভালো করতে হলে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের দেশে ফেরত দিতে হবে—এমন অবস্থান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে পারস্পরিক স্বার্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংবেদনশীল বিষয়গুলোও ভারতকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের অবস্থান ও সংবেদনশীলতা ভারত সরকার উপলব্ধি করবে এবং শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ সংশ্লিষ্ট দণ্ডপ্রাপ্তদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি জানান, সম্প্রতি ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেও শেখ হাসিনা ও অন্যদের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত মামলা নিয়েও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ মামলায় সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি সরকারের অনুরাগ বা বিরাগ নেই। মামলাটি পুরোপুরি আদালতের বিষয় এবং আদালতের নিজস্ব গতিতেই এর কার্যক্রম চলবে।
অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়ার বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর অধীনে মোট ১১ হাজার ১৮৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক, আওয়ামী লীগের দণ্ডপ্রাপ্তদের ফেরত আনা, আলোচিত কর মামলা এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন