ইয়েমেনের কৌশলগত মোখা শহর ও বাব এল-মানদেব প্রণালির আশপাশের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলো পুনর্দখলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে সৌদি আরব ও তাদের মিত্ররা। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান চালানো হচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী হুথিদের পুরোনো ও নতুন সামরিক অবস্থান শনাক্ত করে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। তবে পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় হুথিরাও আগে থেকেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে হুথিদের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো তাদের আত্মগোপন ও ছদ্মবেশী কৌশল। তারা দ্রুত কোনো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলতে সক্ষম। ফলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও তাদের সামরিক স্থাপনা শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও হুথিদের সামরিক সক্ষমতা এবং ইসরায়েলমুখী জাহাজে হামলার সক্ষমতা ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছিল। উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এড়িয়ে নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম গোপন রাখতে পারায় হুথিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযান প্রত্যাশিত ফল পায়নি।
এদিকে দক্ষিণ ইয়েমেনে সৌদি আরব ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে সেখানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্দখলের ওপর। বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বড় সামরিক ঘাঁটি ও বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার। হারানো কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে ইয়েমেন সরকার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে হুথিদের শক্ত অবস্থান, অস্ত্রভাণ্ডার এবং গোপন যুদ্ধকৌশলের কারণে এই অভিযান দীর্ঘ ও কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন