পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১৩০ জনের বেশি। শনিবার ১৫ আগস্ট আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ফ্লোরেস দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর ও স্থাপনা ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকেই হাড় ভাঙাসহ গুরুতর জখম হয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিরাপদ স্থানে ও স্থানীয় একটি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নিয়েছেন।
দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২ সালে পশ্চিম জাভায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটিই ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য অস্থায়ী তাঁবু, খাবার, সুপেয় পানি, তোশক, কম্বল, বিদ্যুৎ সরবরাহের যন্ত্র এবং স্বাস্থ্যবিধিসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধান ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ভূমিকম্পে মাউমেরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দরের ভবনের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর প্রায় এক হাজারটি পরবর্তী কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন ঘন এসব কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
এদিকে ভূমিধসের কারণে ট্রান্স-ফ্লোরেস মহাসড়কসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলোকে। নিখোঁজদের সন্ধান, বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আফটারশকের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন