মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত করার আশা প্রকাশ করেছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে ২০২৫ সালে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধও ভারতের কাছে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। এ সময় দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় দায়িত্ব পালনের গত দুই মাসের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা অত্যন্ত ভালো ও ইতিবাচক হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন ইস্যু থাকবেই। তবে দুই দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটি—বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। ভারতীয় হাইকমিশনার আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ আগে থেকেই রয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শুধু সীমান্ত নয়, দুই দেশের মানুষের স্বপ্নও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে বৈঠকে শেখ হাসিনার বিষয়টি আলোচনায় আসার কথা নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ভারতের কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বিচার বাংলাদেশের আদালতে হয়েছে এবং আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছেন। তার বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকলে তা বাংলাদেশের আদালতেই উপস্থাপন করার কথা। তার অভিযোগ, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানকে যেন কোনো দেশ খাটো করে না দেখে, সেই প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় তার মনে হয়েছে তারা বাংলাদেশের অবস্থান বুঝতে পেরেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোনো স্তরকে দুর্বল বা অবমূল্যায়ন করার মতো ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সীমান্ত হত্যা ও জোর করে মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়গুলো সংক্ষেপে উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এগুলো প্রধানমন্ত্রীর পর্যায়ের আলোচনার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈঠকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ, হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনদের ফেরত পাঠানো এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এখন বাংলাদেশের প্রত্যাশা, আলোচনার এসব বিষয় বাস্তবে কতটা অগ্রগতি তৈরি করে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন