দীর্ঘক্ষণ একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই জাল খুঁজে না পাওয়ায় বিশ্বকাপের ফাইনাল গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর সেখানেই আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় স্প্যানিশরা। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে শেষ পর্যন্ত যোগ্য দল হিসেবেই শিরোপা নিজেদের করে নেয় তারা।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। পঞ্চম মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি হয়। ডান দিক থেকে আক্রমণ গড়ে বল পৌঁছে যায় লামিনে ইয়ামালের কাছে। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। প্রথমার্ধ যত এগিয়েছে, স্পেনের আধিপত্যও তত বেড়েছে। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত ছিল তারা, অথচ আর্জেন্টিনা পুরো প্রথমার্ধে লক্ষ্যভেদী কোনো আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি। বল দখল, নিখুঁত পাস এবং আক্রমণ—সব পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল স্পেন।
৪১তম মিনিটে স্পেনের এক খেলোয়াড়কে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। কিছুক্ষণ পর চোটের কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। বিরতির আগে স্পেন আরও কয়েকটি আক্রমণ করলেও গোলের দেখা মেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। স্পেন বারবার আক্রমণ চালালেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণ কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
তবে যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়। প্রতিপক্ষকে বেপরোয়া ট্যাকল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে শেষ পর্যন্ত ১০ জনের দল নিয়েই অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই স্পেনের নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। কিন্তু হতাশ হয়নি স্প্যানিশরা। ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের দারুণ অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়েও স্পেনের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকেরা। দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন