ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় স্বার্থ নয়, বিএনপি দলীয় স্বার্থ আদায়ে সরকারে গিয়েছে: নাহিদ ইসলাম যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত দিয়েছে ইরান, অপেক্ষা ট্রাম্পের উত্তরের সারা দেশে খননকৃত খালগুলোকে আয়বর্ধক খাতে রূপান্তর করতে হবে : ত্রাণমন্ত্রী সরকারকে দোষ দেই না, নানা খরচে সরকার বিপর্যস্ত: রুমিন ফারহানা অপ্রতীম হত্যাকাণ্ড: নিরাপত্তা দিতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি সাদিক কায়েমের ‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে’ চীনের নৌবাহিনীর জাহাজ পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও নৌবাহিনী প্রধানের এবার সচিবালয়ের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ অপ্রতীম হত্যা: তিন ‘ঘাতকের’ সঙ্গে মিলল সেই আইফোনও কুমিল্লায় ঝটিকা মিছিল, আওয়ামী লীগের ১৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

অতীতে এত শিশুর মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত হামে
  • আপলোড সময় : ২১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময়
  • আপডেট সময় : ২১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময়
অতীতে এত শিশুর মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত জটিলতায় ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ জন এবং হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৫৮৪ শিশু। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, ভিটামিন-এ কর্মসূচির দুর্বলতা এবং অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সামষ্টিক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।


বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, যেসব শিশু নিয়মিত টিকার আওতায় আসেনি কিংবা যাদের শরীরে পর্যাপ্ত প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি, তারা হামের সহজ শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি অপুষ্টি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জটিলতা এবং মৃত্যুর হারও বাড়ছে। চিকিৎসকরা আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো হাসপাতালে না নেওয়ায় পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। শুরুতে সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ি মনে করে বাসায় চিকিৎসা করানোর ফলে নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।


জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, টিকার সরবরাহ ও কাভারেজে ঘাটতি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে অপুষ্টি বৃদ্ধিও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তারা দ্রুত বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, টিকাদান জোরদার এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, রোগী ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা এবং মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণের জন্য নিয়মিত পর্যালোচনা প্রয়োজন ছিল। এসব উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া হলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হতে পারত।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন। এছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৫ হাজার ৯০২ জন, যাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৯৭০ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, অপুষ্টি মোকাবিলা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির বিল ২৭০ দিনের বেশি বকেয়া হলে ইডিএফ ঋণ নয়

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির বিল ২৭০ দিনের বেশি বকেয়া হলে ইডিএফ ঋণ নয়