রাজধানী ঢাকায় দলিত, হরিজন, তফসিলি ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ‘জাতীয় জনজাতি জোট’ নামে নতুন একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। সংগঠনটি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমর্থিত একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে ডেভিড রাজু এবং সদস্যসচিব হিসেবে কৈলাশচন্দ্র রবিদাসের নাম ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। কমিটিতে আরও রয়েছেন রাজেন্দ্র কুমার দাস, মানিক বরাই, অরুণা রানী দাস, নিপু দাস এবং হৃদয় দাসসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতারা ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—সংবিধানে দলিত, তফসিলি ও হরিজন জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি, বৈষম্য বিলোপ আইন সংশোধন ও বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সংসদসহ সব পর্যায়ে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও চাকরিতে বিশেষ সুবিধা, ভূমিহীনদের আবাসন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতির সংস্কার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার, কিন্তু দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনো পিছিয়ে আছে। তাদের জন্য আলাদা জনগণনা ও নীতিনির্ধারণ জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “যেদিন দলিতরা অধিকার পাবে, সেদিনই এ দেশে প্রকৃত অর্থে কেউ অধিকারহীন থাকবে না।”
আয়োজকরা আশা করছেন, নতুন এই জোট প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে সংগঠিত ভূমিকা রাখবে এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন