রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা। এবারের সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত বিপুল প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্মেলনে দেশের সব জেলা প্রশাসক অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ খাত নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। মোট ৩৪টি অধিবেশনের মধ্যে ৩০টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির জানান, এবার সম্মেলনের সময়সীমা বাড়িয়ে চার দিন করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় এক দিন বেশি। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসন থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেলেও এর মধ্যে ৪৯৮টি চূড়ান্তভাবে আলোচনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাত, যেখানে ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, ই-গভর্নেন্স, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় রয়েছে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা রাষ্ট্রপতি, স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ৩ মে সন্ধ্যায়, স্পিকারের সঙ্গে ৪ মে এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ৫ মে অনুষ্ঠিত হবে।
সরকার আশা করছে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের আইনগত, প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সমাধানের পথ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জনসেবা সহজতর হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন