রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস পড়ে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুতে ঘাটের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতির কথা উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটিকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের কাছে জমা দেন কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে। পরদিন বুধবার তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাট পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা এবং বাসের কারিগরি ত্রুটির কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বেশ কিছু সুপারিশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান উছেন মে জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং সব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মৃতদের মধ্যে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর এবং ঢাকার আশুলিয়ার বাসিন্দারা রয়েছেন। একাধিক পরিবারে একসঙ্গে মা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী ও নাতিসহ একাধিক সদস্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন