কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। বিনামূল্যে ওষুধ না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে ছুটছেন, ফলে বাড়ছে সময় ও অর্থের চাপ। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, মনোহরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নে মোট ২১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক থেকে গ্রামীণ জনগণ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন এবং প্রায় ২২ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিকেই ওষুধের তীব্র সংকট চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় ছয় মাস ধরে এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওষুধ না পেয়ে অনেক রোগী খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকের পক্ষে বাইরে থেকে ওষুধ কেনাও সম্ভব হচ্ছে না। নরহরিপুর এলাকার বাসিন্দা সাফায়েত হোসেন জানান, ক্লিনিকে ওষুধ না থাকায় তাকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। এতে তার বাড়তি খরচের পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়ছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা বলছেন, সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে কিছু ওষুধ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর আর কোনো সরবরাহ আসেনি। ফলে এখন রোগীদের শুধু পরামর্শ দিয়েই সেবা সীমিত রাখতে হচ্ছে। গর্ভবতী নারীসহ গুরুতর রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সরবরাহ না থাকায় ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ বিতরণ সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শুধু ওষুধ নয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সেবার মান স্বাভাবিক করতে হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন