অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদকে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে সব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়। সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ অনুমোদন না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। প্রথম অধিবেশনের সময়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেন, যাতে অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করে ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দিতে পারে। বিশেষ কমিটি মঙ্গলবার প্রথম বৈঠক করে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে জারি করা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর বিষয়ে কমিটি পুরোপুরি একমত হয়েছে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ হুবহু রাখার বিষয়ে ও কমিটি একমত হয়েছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করার বিষয়ে বৈঠকে কমিটির বেশির ভাগ সদস্য একমত পোষণ করেছেন। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন জানান, বৈঠকে কিছু বিষয় স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী বৈঠকে পুনরায় আলোচনা করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে তারা বিবেচনায় রাখবেন এবং কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন বা হুবহু রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংবিধান ও জনআকাঙ্ক্ষা দুটোকে সমন্বয় করে এগোতে হবে। বিরোধী দলের এমপি রফিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা অধ্যাদেশে সবাই একমত এবং জুলাই চেতনাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
গতকালের বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, ভূমি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, নারী ও শিশু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গৃহায়ন ও গণপূর্তসহ মোট ৩০টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়। তবে সবকটি বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন