বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ইরান ইতিমধ্যে এই কৌশলগত জলপথে মাইন বসানো শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে গত কয়েক দিনে ইরানি বাহিনী প্রণালী এলাকায় অন্তত কয়েক ডজন মাইন স্থাপন করেছে। তবে তাদের কাছে থাকা মাইন স্থাপনকারী ছোট জাহাজগুলোর মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান চাইলে এই জলপথে আরও বিপুল সংখ্যক মাইন বসানোর সক্ষমতা রাখে।
এই খবর প্রকাশের পর ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যদি ইরান সত্যিই হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন করে থাকে, তবে তা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য কিছুটা বিভ্রান্তিরও সৃষ্টি করেছে। কারণ একই পোস্টে তিনি একদিকে বলেছেন, ইরান মাইন স্থাপন করেছে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই, আবার অন্যদিকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—মাইন অপসারণ না করলে ইরানকে নজিরবিহীন সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে ইরানের মাইন স্থাপনের প্রস্তুতির খবর পাওয়ার পরই ট্রাম্প এ ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার আগের পোস্টটি মুছে নতুন করে একটি বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যে প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা যেকোনো নৌকা বা জাহাজ ধ্বংস করতেও সেই প্রযুক্তিই প্রয়োগ করা হবে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই এলাকায় সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন