পবিত্র মাহে রমজান বরকত, রহমত ও ক্ষমার মাস। এই মাসে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য বেশি বেশি ইবাদত করার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত আছে, শাবান মাসের শেষ দিকে রাসুল (স.) সাহাবাদের সামনে রমজানের মহিমা তুলে ধরে বলেন, এই মাস অত্যন্ত বরকতময়। এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ তাআলা রমজানে দিনের রোজা ফরজ করেছেন এবং রাতের ইবাদতকে নফল করেছেন।
রমজান মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। একটি ফরজ আমলের সওয়াব ৭০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ যদি এক ঢোক দুধ, একটি খেজুর বা সামান্য পানি দিয়েও রোজাদারকে ইফতার করায়, তবুও সে বিশেষ পুরস্কারের অধিকারী হয়। যারা রোজাদারকে পেট ভরে খাওয়াবে, তাদের জন্য কেয়ামতের দিন বিশেষ পানীয়ের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যাতে জান্নাতে প্রবেশের আগে তাদের আর পিপাসা লাগবে না।
রমজান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে—প্রথম দশ দিন রহমত, দ্বিতীয় দশ দিন ক্ষমা এবং শেষ দশ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি। এ মাসে অধীনস্থদের কাজের চাপ কমিয়ে দেওয়া এবং মানবিক আচরণ করা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। রোজা মানুষকে সংযম, ধৈর্য ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয় এবং আত্মশুদ্ধির পথ দেখায়। রোজা ভঙ্গের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃত পানাহার বা ধূমপান, গুল ব্যবহার, ইচ্ছাকৃত বমি, যৌনমিলন, ক্ষুধা নিবারণকারী ইনজেকশন গ্রহণ এবং নারীদের মাসিক শুরু হওয়া।
রমজানের গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদতের মধ্যে তারাবির নামাজ অন্যতম। সাধারণত ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করা উত্তম এবং এটি সুন্নত ইবাদত হিসেবে গণ্য। রমজান মাসে সাহরি খাওয়া বরকতের কাজ এবং সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ইফতার করা উত্তম। ইফতারের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবন করে সঠিকভাবে রোজা ও অন্যান্য ইবাদত পালনের তৌফিক দান করুন। আমিন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন