যুক্তরাষ্ট্রের মেনিয়াপোলিস অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) একজন এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড (৩৭) নামে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (১০ জানুয়ারি) লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেনিয়াপোলিসে ফেডারেল সরকারের নির্বাসন অভিযান চলাকালীন গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) এই গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে দুই রকম দাবি উঠেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলছে, ওই নারী তার গাড়ি দিয়ে এজেন্টকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানো হয়। তবে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট নেতারা ভিডিও ফুটেজ দেখে জানিয়েছেন, রেনি গুড গাড়ি চালিয়ে দূরে সরে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। নিহত রেনি গুড পেশায় একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন, তিনি ওই এলাকায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করতেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইনডিভিবল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক হাজারেরও বেশি সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
একদল মেক্সিকান আদিবাসী নৃত্যশিল্পীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা যেখানে রেনিকে গুলি করা হয়েছিল সেখানে মিছিল করেছে। তারা ‘আইসিই বাতিল করো’ এবং ‘বিচার চাই’ স্লোগান দেয়। ফিলাডেলফিয়া এবং ম্যানহাটনেও শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আইসিই-বিরোধী স্লোগান দেয় এবং অভিবাসন আটক কেন্দ্রগুলোর সামনে বিক্ষোভ করে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে মেনিয়াপোলিসের কয়েকটি হোটেলে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। বিক্ষোভকারীদের ধারণা ছিল, ওই হোটেলগুলোতে আইসিই এজেন্টরা অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিশৃঙ্খলার জবাব তারা বিশৃঙ্খলা দিয়ে দেবেন না। মিনেসোটার তিনজন কংগ্রেস সদস্য (ইলহান ওমর, অ্যাঞ্জি ক্রেগ ও কেলি মরিসন) শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে একটি আইসিই আটক কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার খাতিরে এবং আগে থেকে অনুমতি না থাকায় তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কংগ্রেস সদস্যরা একে বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন