জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। ভোট শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য এদিন ভোরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রুটের বাস ছেড়ে যায়।
সকাল সাড়ে ৮টার আগেই দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এসে পৌঁছায় ক্যাম্পাসে। এ ছাড়া সকাল ৯টার মধ্যে পুরান ঢাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরাও এসে উপস্থিত হন ভোট দিতে। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জকসু নির্বাচনে ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবন, রফিক ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ভবন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে সরেজমিন পরিদর্শন করে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আইরিন শুভ্রা বলেন, জকসু নির্বাচন নিয়ে বরাবরই অনেক উৎসাহী ছিলাম আমি। আজ প্রথমবারের মতো জকসু নির্বাচন হচ্ছে এবং ভোটের আমেজটা পরিপূর্ণভাবেই বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে। পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।
জকসু আসুক নিয়মিত, উৎসবমুখর আনন্দমুখর হয়ে।
এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৩৬৫। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
নির্বাচনে মোট ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ প্রার্থী এবং হল সংসদের ১৩ পদে ৩৩ প্রার্থী। হলের শিক্ষার্থীদের হল সংসদে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য আলাদাভাবে ভোট দিতে হবে।
ভোটগ্রহণ শেষে ৬টি ওএমআর মেশিনে হবে ব্যালট গণনা। ফলাফল ঘোষণা করা হবে কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে। ভোটগণনা সরাসরি দেখানো হবে এলইডি স্ক্রিনে।
এর আগে দুই দফা পিছিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয় বিগত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। এদিন নির্বাচন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এরপর দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ফের জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখযোগ্য প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ ও বামপন্থী মওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেল। এ ছাড়া একটি আংশিক প্যানেল ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়েছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন