বর্তমান সময়ে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। সম্প্রতি তিনি ফিরেছেন তার অভিনীত আলোচিত ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ। সমসাময়িক বিষয়ে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন সোহানুর রহমান সোহাগ
ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বর্তমানে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট-৫’ ধারাবাহিকটি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে। পাশাপাশি কিছু একক নাটকেও কাজ করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রজেক্ট নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে, তবে ব্যস্ততা থাকলেও এটি আনন্দের উৎস।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ ফিরে কেমন লাগছে?
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ ফিরে আসার অভিজ্ঞতা সত্যিই স্পেশ্যাল। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে টিমের প্রতিটি সদস্য পুরোপুরি নিজস্বতা দিয়ে কাজ করে। সবাই সেরাটা দেওয়ার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এখানে প্রতিটি দৃশ্য ও সংলাপ শুধু অভিনয়ের জন্য নয় বরং অনুভব করার জন্য তৈরি। টিমের মধ্যে এক ধরনের সখ্যতা ও সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়, যা কাজকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে। এই ধারাবাহিকে আবার অংশ নেওয়া আমার জন্য আনন্দের। কারণ এখানে কেবল স্ক্রিপ্ট নয়, অনুভূতিও জীবন্ত হয়ে ওঠে। প্রতিটি মুহূর্ত যেন নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগায়। আর দর্শকের প্রতিক্রিয়াও কাজের প্রতি ভালোবাসা ও উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
ফিরে আসার পর টিমের সঙ্গে পুনরায় সমন্বয় করতে কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে?
ফিরে আসার সময় টিমের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি সত্যিই অনন্য ছিল। মনে হলো, পুরনো এক পরিবারের সঙ্গে আবার মিলিত হচ্ছি। যেখানে সবাই একে অপরের শক্তি ও দুর্বলতা জানে। প্রত্যেকেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে আর সেই আন্তরিকতা কাজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। টিমের সঙ্গে মজা, পরামর্শ বিনিময় এবং একসাথে দৃশ্য সাজানোর প্রক্রিয়া সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটিকে আরও স্মরণীয় করেছে।
ব্যাচেলর পয়েন্ট সমালোচকদের কী বলবেন?
সমালোচকদের আমি বলতে চাই, প্রতিটি কাজের মধ্যে ভালো-মন্দ দুইয়েরই জায়গা থাকে। তবে সৃষ্টির পথে সবসময়ই শেখার সুযোগ থাকে। সমালোচনা যদি গঠনমূলক হয়, তা আমাদের উন্নতির পথ দেখায়। আমি চেষ্টা করি প্রতিটি চরিত্র ও প্রতিটি দৃশ্যের মধ্যে সত্যিকারের অনুভূতি প্রকাশ করতে। সমালোচনা আমাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে এবং নিজের সীমা ছাড়িয়ে এগোতে অনুপ্রাণিত করে। তাই সমালোচনা ভীতিকর নয় বরং এটি একটি চ্যালেঞ্জ, যা আমাকে আরও ভালো করে তুলতে সাহায্য করে।
সম্প্রতি ভিকি জাহেদের ‘খোয়াবনামা’ ইউটিউব ফিল্মটি মুক্তি পেয়েছে...
‘খোয়াবনামা’র অভিজ্ঞতা খুবই ভয়ঙ্কর ছিল! মানুষ জীবনে সবচেয়ে বেশি যেটা ভয় পায়, তা হলো মৃত্যুভয়। কিন্তু জীবিত থাকলেও আমাকে কবর বানিয়ে শুয়ে থাকতে হয়েছিল। পুরো সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় শুয়ে থাকার কথাটি ভাবলেই গা ছমছম হয়ে যায়। এটি জীবনের একটি ভিন্ন ও শক্তিশালী অভিজ্ঞতা।
এই অভিজ্ঞতা কি নতুন কোনো উপলব্ধি এনে দিয়েছে?
হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবেই। মৃত্যুর সঙ্গে এতটা কাছাকাছি আসার পর জীবনকে আরও সংযতভাবে গ্রহণ করার অনুভূতি জন্মেছে। ছোট ছোট আনন্দগুলো এখন আমার কাছে আরও মূল্যবান মনে হয়।
সিনেমায় কবে দেখা যাবে আপনাকে?
আমি এখনই সিনেমা করতে চাই না। কারণ টেলিভিশন নাটকের কাজেই বেশ ব্যস্ত আছি। তবে ভবিষ্যতে থ্রিলার ধরনের সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছে আছে। এমন গল্পগুলো আমাকে উত্তেজনা দেয় এবং দর্শককে অনুভূতি ও রহস্যে ভরিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই যদি সময় ও সুযোগ মেলে আমি থ্রিলার জনরার মাধ্যমে সিনেমায় নিজেকে মেলে ধরতে চাই।