পোষ্যকোটা নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কমপ্লিট

রাকসুর কার্যক্রম চলমান রেখে কর্মকর্তাদের শাটডাউন কর্মসূচি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ২:৪২ সময় , আপডেট সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ২:৪২ সময়

পোষ্যকোটা নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (রাকসু) সকল কার্যক্রম এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।


রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে রাবি অফিসার সমিতির কোষাধ্যক্ষ মাসুদ রানা এই ঘোষণা দেন।


মাছুদ রানা বলেন, 'গতকালের হামলায় যে সাবেক শিক্ষার্থীরা জড়িত ছিল, তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। দাবি মানা না হলে সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লিট শাটডাউন থাকবে, তবে রাকসুর সকল কার্যক্রম এর বাইরে থাকবে।


অফিসার সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, যারা গতকাল শিক্ষকদের উপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে তারা শিক্ষার্থী না, তারা সন্ত্রাসী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সন্ত্রাস থাকতে পারেনা।


জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক জরুরি একাডেমিক সভায় পোষ্যকোটা পুনর্বহালের পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সাবেক সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতারা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন শিক্ষার্থীরা। এদিন রাত ১১টা পর্যন্ত আন্দোলন চালান তারা। পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর পোষ্যকোটা বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন কয়েক শিক্ষার্থী।


রাতভর আমরণ অনশনের পর গতকাল(২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ার পোড়ায়। এরপর বিকাল সাড়ে ৩টায় তারা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে। এসময় তারা উপ-উপাচার্যের গাড়ি আটকায় এবং সেখানে টাকা ছুড়ে মারে। এরপর তারা উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাইন উদ্দিন খানের এর বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।


এতে তিনি তার বাসভবনে প্রবেশ করতে না পারায় প্রক্টর মাহবুবর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে আবারও শিক্ষার্থীদের বাধার সম্মুখীন হয়। এসময় কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক, উপ-উপাচার্যের সাথে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি হয়। এই ধ্বস্তাধস্তিতে শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়। এরপর কয়েকঘন্টা অবরুদ্ধ থাকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার ইফতেখার আলম মাসউদ, প্রক্টর মাহবুবুর রহমান, রাকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এনামুল হকসহ আরও অনেকে।


রাতভর এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে রাত পৌনে দুটায় পোষ্য কোটার ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব এবং আজ রবিবার জরুরী সিন্ডিকেট সভায় তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আশ্বাস দেন তিনি। এরপরই থেকে কর্মসূচি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ৩টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।


প্রসঙ্গত, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের গত ২ জানুয়ারি পোষ্যকোটা বাতিলের ঘোষণা দেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব। এরপর থেকেই শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পোষ্য কোটাকে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দাবি করে একের পর এক আন্দোলন শুরু করে। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে ১৮ তারিখের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে এক জরুরী একাডেমিক কমিটির সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক সভায় ১০ শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯