ঢাকার বায়ুতে এখন ভয়াবহ দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। শীতকাল আসলেই প্রতিবছরই ঢাকার বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। এই দূষণের

বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর বিষ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

আপলোড সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:২৯ সময় , আপডেট সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:৪৫ সময়
ঢাকার বায়ুতে এখন ভয়াবহ দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। শীতকাল আসলেই প্রতিবছরই ঢাকার বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। এই দূষণের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, মাসের বেশিরভাগ দিনই বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় থাকে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেইলি এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি নভেম্বর মাসের ২৫ দিনের মধ্যে ১৯ দিনই ঢাকার বায়ু ছিল অস্বাস্থ্যকর, এর মধ্যে ৫ দিন ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। বাকি দিনগুলোতে বায়ুর মান সতর্কীকরণ এবং মধ্যম মানের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ, নভেম্বর মাসে এখনও এক দিনও ঢাকার বায়ু নির্মল বা সুস্থ ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে দেশের বায়ুদূষণের প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশ ঘটে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে মূল বায়ুদূষণ হয়, এবং এই সময়কালেই প্রধানত দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে প্রতিবেশী দেশ থেকে আগত ট্রান্স বাউন্ডারি বায়ু দূষণ। এছাড়া স্থানীয় ইটভাটা, শিল্পকারখানা, নির্মাণকাজ এবং বর্জ্য পোড়ানোর কাজও শীতকালে ব্যাপকভাবে বাড়ে। শীতকালে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বায়ুতে দূষণের পরিমাণ বেড়ে যায়।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ নভেম্বর বিকাল ৫টায় ঢাকার বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৫টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। ওইদিন ঢাকার বায়ু মানসূচকে ১৫৬ স্কোর অর্জন করেছিল। বায়ুম লীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর ২০১৬-২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ বছরের মধ্যে নভেম্বর মাসের ২৪৫ দিন থেকে ১৩৮ দিন ছিল অস্বাস্থ্যকর এবং ৫৬ দিন ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। অর্থাৎ গত ৯ বছরে নভেম্বর মাসে ঢাকার মানুষ মাত্র এক দিনই নির্মল বায়ুতে শ্বাস নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা শীতকালে বায়ুদূষণ কমানোর জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, শীতকালে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ‘ওড নম্বর’ ও ‘ইভেন নম্বরে’ গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজগুলো নির্মাণবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ডিসেম্বরের শেষদিকে বায়ুদূষণ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়, এ সময় স্কুল-কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়েও ভাবনা চিহ্নিত করা যেতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুর রহমান বলেছেন, বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, বাতাস খারাপ থাকলে শিশু ও বয়স্কদের ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং মাস্ক ব্যবহারের কথা। সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং শারীরিক ব্যায়ামও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক জানান, সরকার অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং রাস্তার ওপর যেসব পুরনো এবং ফিটনেসহীন বাস ও ট্রাক চলাচল করছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর পাশাপাশি বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করতে এবং সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির মাধ্যমে হওয়া দূষণ কমানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯