বিমানে বসেই পাস্তা তৈরি করে রীতিমতো ইন্টারনেট কাঁপিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো’র বাসিন্দা কেটি ব্রুকস। নিজের আসনে বসে পাস্তা বানানোর ভিডিও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করতেই সেটি ৮.১ মিলিয়নেরও বেশি ভিউ পেয়েছে এবং হাজার হাজার মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
ভিডিওটির ক্যাপশনে কেটি লিখেছেন, ‘পিওভি: তুমি বিমানের খাবার ঘৃণা করো, তাই তুমি নিজেই বানাও।‘
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি বাটিতে ময়দা ও পানি মিশিয়ে পাস্তা বানানোর কাজ শুরু করেন। ধাপে ধাপে ময়দা মিশিয়ে ছোট ছোট টুকরো তৈরি করে, তা গড়িয়ে কাটারের সাহায্যে পাস্তার আকার দেন। শেষে প্লেটে করে নিজের তৈরি পাস্তা পরিবেশন করতেও দেখা যায় তাকে।
এই বিষয়ে সামাজিক মাধ্যম থেকে যেমন প্রশংসা পান, ঠিক তেমনিই সমালোচনার শিকারও হন।
অনেকেই এই সৃজনশীলতা ও আত্মনির্ভরশীলতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে সবাই একমত নন। কেউ কেউ কেটির আচরণকে সহযাত্রীদের জন্য ‘বিরক্তিকর’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলেও অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে যাত্রাপথে খাদ্য-সংক্রান্ত অ্যালার্জির বিষয়টি সামনে আনেন অনেকে।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘গমে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা আছে। দয়া করে এমন কাজ বিমানে করবেন না যেখানে সবাই বাতাস ভাগাভাগি করে।‘ আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টিএসএ আমাকে বাদাম ভর্তি ছোট একটি পাত্র আনতে দেয়নি। তারা বলেছে এটি একটি ‘ধারালো ঢাকনা’। অথচ কেটিকে ধাতব কাটার আনতে কীভাবে দিল?’ আরও একজন বলেন, ‘ঈশ্বর না করুন, যদি একজন ভারতীয় একই কাজ করতো, তাহলে কমেন্ট সেকশন পাগল হয়ে যেত।‘
কেটি ব্রুকস সান ডিয়েগোতে পাস্তা তৈরির ক্লাস ও ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন।তিনি জানান, নিজের পেশার সঙ্গেই মিল রেখেই তিনি এ ধরনের ভিডিও তৈরি করেন।
তবে এ ঘটনা বিমান ভ্রমণে যাত্রী আচরণ, নিরাপত্তা বিধিনিষেধ ও খাদ্য অ্যালার্জি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৃজনশীলতা যেমন উৎসাহিত করা উচিত, তেমনি বিমানের মতো সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অন্য যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
এ ঘটনায় বিমান সংস্থা বা টিএসএ-এর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে এয়ারলাইন্সগুলোকে নতুন নীতিমালা তৈরিতে উৎসাহিত করতে পারে বলে জানান বিশ্লেষকরা।