প্রকাশিত হয়েছে উপমহাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুঁইফুল: সাবিনা ইয়াসমিন’। সত্তর পেরিয়ে আসা সাবিনা এই তথ্যচিত্রে ধরা দিয়েছেন সেই আগের মতো চিরসবুজ মায়া নিয়ে।
মুখে হাসি, মিষ্টি কণ্ঠের মাদকতা আর স্বভাবসুলভ সেন্স অব হিউমারে ভরে রেখেছেন পুরোটা সময়। কথা বলেছেন নিজের অনেক অজানা বিষয়ে। তিনি মনে করেন, সাড়ে ৬ দশকের সঙ্গীত ক্যারিয়ারে যা পেয়েছেন মানুষের কাছ থেকে তার কোন তুলনা হয় না। মানুষের ভালোবাসা আর সম্মানকেই সবার উপরে রাখলেন তিনি।
সঞ্চালক সাইখ সিরাজ তাকে জিজ্ঞেস করেছেন নিজের জীবনের এমন কোন অপ্রাপ্তির কথা যা আজও পূরণ হয়নি। সাবিনা এই প্রশ্নের উত্তরে যা বললেন তাতে তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন, মহান শিল্পী হতে গেলে মহান মানুষ হতে হয় সবার আগে।
সাবিনার ভাষ্য, ‘ব্যক্তিজীবনের পূর্ণতা অপূর্ণতা থাকবেই। ওসব নিয়ে কথা নাই বা বললাম। তবে একটা অপূর্ণতা আমার আজীবন রয়ে গেছে। সেটা শুধু আমার একার অপ্রাপ্তি বলব না, আমাদের পুরো শিল্পী সমাজের জন্যই এটি অপ্রাপ্তির বিষয়। তা হলো, এই যে আমরা এতো এতো গান করলাম, কিন্তু আমাদের কোন রয়্যালিটির ব্যবস্থা নেই। সারা বিশ্বে যেখানে রয়্যালিটি সিস্টেম চালু আছে, আমাদের এখানেই শুধুমাত্র না নেই। এটা আমাকে বেশ ভাবায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রয়্যালিটি থাকলে আমাদের শিল্পীদের জীবন কতোটা নিশ্চিত হতো, তা আপনারা সবাই জানেন। আমাদের যতো গান আছে তার রয়্যালিটি পেলে আমাদের কয়েক প্রজন্ম ভালোভাবে খেয়ে পরে বাঁচতে পারতো।’
কিংবদন্তি শিল্পী প্রয়াত আব্দুল আলিমের কথা উদাহরণ দিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘এই যে আব্দুল আলিম ভাইয়ের পরিবার আর্থিক কষ্টে আছে। তিনি আমাদের গানের জগতে যা দিয়েছেন তাতে রয়্যালিটি পেলে তার ছেলে মেয়েরা আরামে জীবন কাটাতে পারতো। এই রয়্যালিটি আমাদের শিল্পীরা কোনদিন পাবে কি না জানি না। তবে আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন হয়তো পাবে। এজন্য আমার অপ্রাপ্তির প্রশ্নে রয়্যালিটির কথাটিই বললাম।’