ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর মাঠে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধ ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত খবর বলছে,

রাজনৈতিক মতবিরোধ: পরিণতি নিয়ে শঙ্কা বিশ্লেষকদের

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩০ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ২:২২ সময় , আপডেট সময় : ৩০ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ২:২২ সময়

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর মাঠে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধ ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত খবর বলছে, রোডম্যাপ পেয়ে বিএনপিসহ সমমনা জোটের নেতারা যখন ইসির রোড ম্যাপ ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন।


অন্যদিকে, এই ঘোষণায় প্রকাশ্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এভাবে নির্বাচন ‘হতে না দেওয়া’র হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তাদের দাবি, নির্বাচন হতে হবে পিআর পদ্ধতিতে।


শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন হবেই। এর কোন বিকল্প নেই। আজকে যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় বা নির্বাচন না হয় তাহলে এই জাতি প্রচন্ড রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার আশঙ্কা অনেক বাড়বে।


‘দেশে একটা ষড়যন্ত্র চলছে’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ষড়যন্ত্রটা হচ্ছে দেশে মধ্যপন্থা রাজনীতি, উদারপন্থি রাজনীতি, উদারপন্থি গণতন্ত্র সরিয়ে দিয়ে একটা উগ্রবাদের রাজনীতিকে নিয়ে আসা বাংলাদেশে। এটা বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।’


‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ আন্দোলনে ভূমিকা রাখা দলগুলোই এখন নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘যার জন্য আমরা তর্ক করছি, বিতর্ক করছি, সংস্কারের জন্য আলাপ-আলোচনা করছি, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে দুই-একটা পক্ষ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে।’


তিনি বলেন, আজকে কোথাও কোথাও কথা বলতে শুনলাম, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তার মধ্য দিয়ে নাকি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বাধা সৃষ্টি হবে অথবা নির্বাচন ভন্ডুল করার নাকি একটা পাঁয়তারা হবে। আমরা সেভাবে কেন দেখব?


‘প্রধান উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন’-এমন অভিযোগ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েব আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের।


‘এই রোডম্যাপ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনকে ভন্ডুল করার নীল নকশা’ মন্তব্য করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জুলাই চার্টারকে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে; এবং এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু সেগুলো না করেই নির্বাচনের যে পথ নকশা ঘোষণা করা হয়েছে সেটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ভন্ডুল করার নীল নকশা বলে আমি মনে করি। আমরা এটা হতে দেব না। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করবো, জুলাই চার্টার ও পিআর এর মাধ্যমে নির্বাচন হতে হবে।’


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আবিদ বলেছেন, ‘অজানা কারণে ঐকমত্য কমিশনের পরবর্তী দফার বৈঠক পেছানো হয়েছে এবং এখনও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার উপায় নির্ধারণ হয়নি। জুলাই সনদ চূড়ান্ত না করে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত না হয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ঐকমত্য কমিশন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।’


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘সংস্কারের জন্য নানা কার্যক্রম হয়েছে, কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, সংস্কারের সকল চেষ্টাই এখন কাগুজে দলিলে পরিণত হয়েছে। মৌলিক সংস্কারের সামান্যতমও বাস্তবায়ন হয় নাই।’


এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা নিয়েও মতবিরোধ আছে। যেসব দল মাঠে আছে তারাই তো এক কাতারে আসেননি। আপনি কীভাবে নির্বাচন করবেন?


এই পর্যবেক্ষক বলেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। সেটা মোকাবিলার করার মতো মানসিকভাবে প্রশাসন কতটা প্রস্তুত সেটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯