এই খবরে দুই বাংলার সুপরিচিত অভিনেত্রী রাফিয়াত রশীদ মিথিলার ছবি এবং ‘ডক্টর’ কথাটা একসঙ্গে দেখে চিন্তায় পড়ে যান নি তো? কথাটি কিন্তু বাস্তব! মিথিলা এখন সত্যিই ডক্টর। গতকাল রাতেই ভক্তদের দিলেন এই দারুণ সুখবরটি।
ঠিকই ধরেছেন, ডক্টরেট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছেন এই জনপ্রিয় তারকা। অনেকেই জানেন, মিথিলা তুখোড় মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে স্নাতক ও স্নাতোকত্তর সম্পন্ন করে দ্বিতীয় মাস্টার্স করেন ব্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
সেখানে সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৪ পেয়েই চ্যাঞ্চেলরর্স মেডেল অর্জন করেন এই নায়িকা। এরপরও তিনি থেমে থাকেননি। অভিনয়, সন্তান মানুষ করা, সংসারের ভার সামলানো এবং বিদেশে ব্র্যাকের একটি ফুল টাইম চাকরীর পাশাপাশি তিনি পিএইচডি শুরু করেন ইউনিভার্সিটি অব জেনেভা’য়।
আর তা সম্পন্ন হতে দীর্ঘ ৫ বছর সময় লেগেছে এই তারকার। যদিও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করতে গেলে ৪-৫ বছর স্বাভাবিক সময়। মিথিলার এমন উজ্জ্বল ও অনবদ্য অর্জনে দারুণ খুশি ভক্তরা। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তারকাকে শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন।
গতকাল রাতেই মিথিলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘‘আমি ‘আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশন’ নিয়ে পিএইচডি শেষ করলাম। এটি শেষ করতে সাধারণত চার-পাঁচ বছর লেগেই যায়। আমার ইচ্ছা ছিল চার বছরের মধ্যে শেষ করার। কিন্তু মাঝে কোভিডের কারণে তথ্য সংগ্রহের কাজে বাঁধাগ্রস্ত হই। তাই অবশেষে ৫ বছরে শেষ করতে পারলাম। গবেষণাপত্র জমা দেবার পর বিজ্ঞ জুরিবোর্ডের সামনে একটি ডিফেন্স কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। ৩-৪ ঘণ্টার একটি প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। আমাকে চারজন এক্সটার্নাল প্রফেসর প্রশ্ন করেন, আমাকে সে সবের সঠিক উত্তর দিতে হয়। ওই কার্যক্রম শেষে আমাকে সঙ্গে সঙ্গেই জানিয়ে দেওয়া হয় যে আমি আমার পিএইডডি ডিগ্রী ধারণের যোগ্যতা অর্জন করলাম।’’
এতো ব্যস্ততার মধ্যেও পিএইচডি কেন করলেন? জানতে চাইলে মিথিলা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘‘আমার তো লেখাপড়া করতে ছোটবেলা থেকেই ভালো লাগে। এই চর্চা আমার জন্য একটি থেরাপির মতো কাজ করে। আর আমি যেহেতু ব্র্যাকে ‘আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়েই মাস্টার্স করার পর দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়েই কাজ করছি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে, তাই আমার মনে হয়েছে বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরে জানতে পারলে আমার কাজ আরও উন্নত হবে, সহজতর হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘পিএইচডি এমন একটা জিনিস, যা বাবা মা চাইলেই হয় না। নিজেকেই এটির জন্য প্রস্তুত করতে হয়। তবে আমার বাবা মা, ভাই বোন এবং আমার মেয়ে খুবই খুশি। তারা সবাই আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছে, অনেক ছাড় দিয়েছে আমাকে যেন লেখাপড়াটা শেষ করতে পারি। আমার জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাই ছিল, পিএইচডির ৫ বছরের জার্নিটাও সহজ ছিল না। নানাবিধ ব্যস্ততাকে ব্যালেন্স করে কাজটি করতে হয়েছে। এটি আমাকে ধৈর্য্য শিখিয়েছে, হার না মানতে শিখিয়েছে, লেগে থাকতে শিখিয়েছে। এজন্যই আজ এই ডিগ্রীটি আমি অর্জন করতে পেরেছি।’
মিথিলা ফেসবুকে লেখেন, ‘‘আজ থেকে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে এবং গর্বের সাথে আমার নামের সাথে ‘ডক্টর’ উপাধি যুক্ত করতে পারি - এমন একটি উপাধি যা অর্জন করার জন্য আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি।’’