ঋণ পুনঃ তফসিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তহীনতায় গত এক বছরে বন্ধ ও রুগ্ণ হয়েছে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

ধসে পড়ছে অর্থনীতির উৎপাদনশীল ভিত্তি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ৩:৯ সময় , আপডেট সময় : ১৮ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ৩:৯ সময়

ঋণ পুনঃ তফসিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তহীনতায় গত এক বছরে বন্ধ ও রুগ্ণ হয়েছে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কারখানা বন্ধের এই ধাক্কা সামষ্টিক অর্থনীতিতে অচলাবস্থার সৃষ্টির পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।


৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর হামলার শিকার কারখানাগুলোর বেকার হওয়ার শ্রমিকদের সঙ্গে এই সংখ্যা যোগ হলে এক বিপর্যয়কর অবস্থা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে এসব তথ্য উঠে এসেছে।


জানা গেছে, খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃ তফসিল প্রক্রিয়ায় ধীরগতির ফলে দেশের বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুঁজি সংকটে পড়েছে। নগদ অর্থের অভাবে অনেক কারখানা ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান অনিশ্চয়তায় ভুগছে।


ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আবেদন নিষ্পত্তির ধীরগতিতে তাদের নগদ অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কর্মী ছাঁটাই বাড়ছে এবং সরবরাহকারীদের কাছে বকেয়া জমছে। ফলে অর্থনীতির উৎপাদনশীল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।


বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আর সরাসরি ঋণ পুনঃ তফসিলের আবেদন অনুমোদন বা বাতিল করে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকেই এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বড় ঋণগ্রহীতাদের সহায়তায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ উদ্যোগ নেয়।


গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ পুনর্গঠন প্রস্তাব যাচাইয়ের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৩০০টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। যাদের বেশির ভাগ রপ্তানিনির্ভর খাত। যেমন- টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত শিল্প। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ২৮০টি প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃ তফসিল করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন-বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘সব আবেদন একটি মাত্র কমিটি দেখছে বলে প্রক্রিয়া ধীরগতির শিকার হয়েছে। প্রতিটি বৈঠকে মাত্র তিন থেকে চারটি আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই হারে চললে সব আবেদন নিষ্পত্তি করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।’


বিজিএমইএ গত ১০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে অতিরিক্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।


কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর, শিল্প পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক বছরে সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ৫ শতাধিক কারখানা বন্ধ ও রুগ্ণ হয়েছে। বন্ধ কারখাআর ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৪২ শ্রমিক বেকার হয়েছেন। তাঁদের অনেকে চাকরির জন্য ছুটতে ছুটতে শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে গ্রামে ফিরেছেন। বন্ধ কারখানার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও টেক্সটাইলশিল্পের।


শিল্প মালিকরা বলছেন, ঋণ পুনঃ তফসিলে ধীরগতি পাশাপাশি উচ্চসুদ, কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ছাড়াও কাঁচামাল আমদানিতে এলসি সমস্যা, শিল্পে অব্যাহত গ্যাস সংকট, দফায় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়া, অব্যাহতভাবে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচে অনেকে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। তাঁরা চরম সংকটের কারণেই কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনিয়ন্ত্রিত এ পরিস্থিতিতে খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃ তফসিল প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে অস্বাভাবিক গতিতে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। যা ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর দেওয়া প্রতি চার টাকার মধ্যে এক টাকারও বেশি এখন খেলাপি হয়ে গেছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। তখন খেলাপি ঋণের হার ছিল ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।


সাউথ এশীয় নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত ঋণগ্রহীতাদের সময়মতো সহায়তা দেওয়া জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে ঋণ পুনঃ তফসিল অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে অনুমোদিত হয়েছিল। এর ফলে বর্তমান সংকটে প্রকৃত ঋণগ্রহীতারা অসুবিধায় পড়েছেন।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্যই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিপুল আবেদন ও জটিলতা থাকায় সময় লাগছে। তবে প্রক্রিয়া দ্রুত করার চেষ্টা চলছে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই সমাধান পাবে।’

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯