অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাড়ি জমাচ্ছেন বাংলাদেশের অনেক কর্মী। তাদের অনেকেই দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার হচ্ছেন, অনেককে আবার বিমানবন্দর

যেসব কারণে মালয়েশিয়ায় প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে বাংলাদেশি কর্মীরা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৭ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ২:৩৩ সময় , আপডেট সময় : ১৭ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ২:৩৩ সময়

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাড়ি জমাচ্ছেন বাংলাদেশের অনেক কর্মী। তাদের অনেকেই দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার হচ্ছেন, অনেককে আবার বিমানবন্দর থেকে ফেরতও পাঠানো হচ্ছে।


মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সির পক্ষ থেকে প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে ভুয়া হোটেল বুকিং, ফেরার বিমানের টিকিট না থাকা এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়া। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফেরত পাঠানো সব প্রবাসী মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে থাকার এবং কাজ করার জন্য প্রবেশ সুবিধার অপব্যবহারের চেষ্টা করেছিল।


পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, শুধু আগস্ট মাসের প্রথম ১৬ দিনেই ৩২৮ জন বাংলাদেশি কর্মীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার ফেরত পাঠানো হয়েছে ৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মীকে। এর বাইরে ১৩ আগস্ট ২০৪ জন এবং ৫ আগস্ট আরো ২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।


দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে গত বছর ৩১ মে বন্ধ করে দেওয়া হয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধভাবে বাজার চালু করা না গেলে অবৈধ কর্মী যাওয়া কমবে না, বরং পরবর্তী সময়ে বাজার খোলায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে।


গতকাল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মীকে আটকে দেয় দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। তাঁরা ঢাকার একটি ফ্লাইটে সেখানে গেলেও মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অনুমতি পাননি। মালয়েশীয় বার্তা সংস্থা বার্নামায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের প্রথম টার্মিনালে রাত ১টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালায়। এ সময় ১৮১ জন যাত্রীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ৯৮ জন বাংলাদেশির কাগজপত্র যথাযথ না থাকায় তাঁদের ‘নো টু ল্যান্ড’ নোটিশ দেওয়া হয়।


সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, এই যাত্রীদের সবাই ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে ভোররাতে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। ধারণা করা হচ্ছে, দিনের বেলায় কঠোর যাচাই-বাছাই এড়াতে তাঁরা ভোরে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে যথাযথ হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকিট এবং পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ না থাকায় তাঁদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আটক ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে পর্যটন ভিসার অপব্যবহার করে দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাস ও কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনার সন্দেহ রয়েছে।


এর আগে গত ১২ আগস্ট মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি (এমসিবিএ) কেএলআইএ-তে ২৪ ঘণ্টার সমন্বিত অভিযানের সময় বিভিন্ন দেশের মোট ২২৯ জনকে প্রবেশে বাধা দেয়। ওই দিন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে পরদিন ১৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলা অভিযানে সংস্থাটি কেএলআইএ টার্মিনাল-১ এবং টার্মিনাল-২-এর আন্তর্জাতিক আগমন ও প্রস্থান হলে ৭৬৪ জন বিদেশি দর্শনার্থীর স্ক্রিনিং করে ৭৬৪ জনকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর মধ্যে ২২৯ জন প্রবেশের শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন বলে জানায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।


এই ২২৯ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন ২০৪ জন। এ ছাড়া ভারতের ১৪ জন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার তিনজন করে এবং কম্বোডিয়ার দুজন নাগরিক ছিলেন। সে সময় এমসিবিএ জানায়, ২০৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ আগস্ট ভোরে ঢাকা থেকে তিনটি ফ্লাইটে ৬৬ জন বাংলাদেশি কেএলআইএ-১-এ পৌঁছান।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯