আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কমচারীদের ওপর হামলার বিচার এবং পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যাংকের চাকরিচ্যুত আন্দোলনরত কর্মীরা।
রোববার (১০ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, গত ৭ আগস্ট আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত চাকরিচ্যুত সদস্যদের ওপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মদদে অর্ধশত নিরাপত্তাকর্মী হামলা চালায়। এতে আন্দোলনরত অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন। কিন্তু শুক্রবার গণমাধ্যমে ব্যাংকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের কর্মকর্তা ও প্রহরীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অথচ গণমাধ্যমে প্রহরী দলের লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
ফরহাদ বলেন, গত ২০ জুলাই ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও উপ-শাখার ৫৪৭ জন কর্মকর্তাকে পৃথক ই-মেইলের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে গত ২৮ জুলাই থেকে প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে আসছি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দাবি করেছে, ২০২১ সাল থেকে ব্যাংকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসংগতি রয়েছে। সাধারণত ব্যাংক নিজেদের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি প্রকাশ না করলেও এ ব্যাংক নিজেরা দোষী দাবি করেছে।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বতন্ত্র পর্ষদ নিয়োগ করা হলেও তারা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সুশাসন আনার পরিবর্তে নিজেরাই দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। ৫৪৭ জন নিম্নপদের কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করে গত এক বছরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রায় দুই শতাধিক নির্বাহী ও কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে তাদের আগের প্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিকসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বর্তমান চেয়ারম্যান খাজা শাহরিয়ার ও ইসি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ ঘুষ নিয়ে তাদের নিয়োগ দিয়ে শত কোটি টাকা আয় করেছেন। তাদের অপকর্মের কারণে আজ ব্যাংকটি ধ্বংসের মুখে। তাই আমরা চাই, এ দুর্নীতিবাজ পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হোক।