ইসরায়েল ঘোষিত তথাকথিত "মানবিক বিরতি"র প্রথম দিনেই গাজায় ফের শুরু হয়েছে বিমান হামলা। হামলায় অন্তত ৬৩ জন নিহত

‘নিরাপদ’ ঘোষিত এলাকাতেই বোমা, গাজায় ক্ষুধায় শিশুমৃত্যু অব্যাহত

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

আপলোড সময় : ২৮ জুলাই ২০২৫, দুপুর ১০:৪৬ সময় , আপডেট সময় : ২৮ জুলাই ২০২৫, দুপুর ১০:৪৬ সময়
ইসরায়েল ঘোষিত তথাকথিত "মানবিক বিরতি"র প্রথম দিনেই গাজায় ফের শুরু হয়েছে বিমান হামলা। হামলায় অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ‘নিরাপদ এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত গাজা সিটি ও দেইর আল-বালাহতেও আঘাত হানা হয়।

আল-জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানান, গাজা সিটিতে একটি বেকারিতে বোমা বর্ষণ করা হয়, যেখানে সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল।

গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ৬ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মাত্র পাঁচ মাস বয়সী শিশু জয়নাব আবু হালিব। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে।

শিশু জয়নাবের মা ইসরাআ আবু হালিব কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “তিন মাস হাসপাতালে থাকার পর এই হলো ফলাফল, আমার সন্তান আর বেঁচে নেই।”

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, গাজার প্রতি তিনজন বাসিন্দার মধ্যে একজন দিনের পর দিন না খেয়ে আছে, আর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষসদৃশ অবস্থায় রয়েছে।

গাজার এক বাসিন্দা ফালেস্তিন আহমেদ জানান, তিনি এক-তৃতীয়াংশ ওজন হারিয়েছেন। “আগে আমার ওজন ছিল ৫৭ কেজি, এখন মাত্র ৪২ কেজি। আমার ছেলেও মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে,” তিনি বলেন। “বাড়িতে খাবার বলতে কিছু নেই, আর যা পাওয়া যায়, তা এত ব্যয়বহুল যে কিনে খাওয়া সম্ভব না।”

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান গাজায় আকাশপথে ত্রাণ পাঠালেও তার বেশিরভাগই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ও বিপজ্জনক। আল-জাজিরার হানি মাহমুদ জানান, আল-রাশিদ রোডের এক শরণার্থী শিবিরে খাদ্য সহায়তার প্যালেট পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন।

এদিকে, ইসরায়েল এখনো গাজায় দুর্ভিক্ষের অস্তিত্ব অস্বীকার করছে। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। “আমার সন্তানরা এক সপ্তাহ ধরে কিছু খায়নি,” বলেন শরণার্থী মা সুমুদ ওয়াহদান। “আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বের হয়েছি শুধু একটু আটার আশায়।”

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না যে শিশুরা না খেয়ে মারা যাচ্ছে।” তিনি জানান, ফ্রান্স শিগগিরই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “খাদ্য রোধ করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। এটি মানবতারও অবমাননা।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে চলমান অস্ত্রবিরতির আলোচনায় “অগ্রগতি হচ্ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, “যেকোনো দিন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে” এবং বাকি বন্দিদের অর্ধেকেরও মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৮৮ জন নিহত এবং ৩৭৪ জন আহত হয়েছেন। অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৯,৮২১ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ১,৪৪,০০০-এরও বেশি মানুষ।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাঝেও গাজায় সহিংসতা প্রতিদিন নতুন মাত্রা পাচ্ছে, যেখানে মানবিক বিপর্যয় সীমাহীন রূপ নিয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯