যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি ৩৫ শতাংশ শুল্কারোপে বাংলাদেশের জিডিপি কমতে পারে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের জুলাই সংস্করণে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। আর এই শুল্ককে বাংলাদেশের পোশাক খাত ও শ্রমবাজারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। তবে বাংলাদেশের ঋণমান 'স্থিতিশীল' রেখেছে মার্কিন সংস্থাটি।
আগামী ১লা আগস্ট থেকে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা ৩৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। যদিও এ হার কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য আলোচনাকারী সংস্থা ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভে সঙ্গে তৃতীয় দফায় আলোচনা হবে আগামী ২৯ জুলাই।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টা শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বংলাদেশশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের জুলাই সংস্করণে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। সংস্থাটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ধরার কারণ হিসেবে রফতানি ও শিল্প খাতের ধীরগতিই বলেই জানিয়েছে। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঠিক কত হবে, এবারের সংস্করণে তা বলেনি সংস্থাটি।
গত অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, কড়াকড়ি আর্থিক ও রাজস্ব নীতি ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে এডিবি। একই কারণে চলতি অর্থবছরেও মূল্যস্ফীতি কমার পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ককে বাংলাদেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঝুঁকি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালও। তাদের যুক্তি, এই শুল্ক কার্যকর হলে তা তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা ও শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসঅ্যান্ডপি বাংলাদেশের ঋণমান 'স্থিতিশীল' রেখেছে তারা। বাংলাদেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান আগের মতোই 'বি প্লাস' ধরে রেখেছে; একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি রেটিং 'বি' বহাল রেখেছে এসঅ্যান্ডপি।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসঅ্যান্ডপি জানায়, গত দুই বছরে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য কমেছে। তবে গত ১৮ মাসে নমনীয় বিনিময় হার, টাকার অবমূল্যায়ন, কঠোর মুদ্রানীতি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে। বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে আগামী এক বছরে প্রবৃদ্ধি আবার গতি পেতে পারে। সে ধারাবাহিকতায় পরবর্তী তিন বছরে প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। এসঅ্যান্ডপি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন এই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।