কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস তুলিকে (২২) হত্যার প্রতিবাদ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচির পালন করা হয়।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা শরিফা খাতুন। এ মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত তুলি কুষ্টিয়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাতেঘরিয়া গ্রামের মোল্লাপাড়া এলাকার ওহিদুল ইসলাম। সে কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করতো। অভিযুক্ত আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সুমন কুষ্টিয়া জর্জ আদালতের আইনজীবী। সে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চক দৌলতপুর এলাকার মৃত তক্কেল আলীর ছেলে।
গত মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকায় জিলা স্কুলের সামনে মফিজ উদ্দীন লেনের গোলাম নবীর বাড়ির তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া আইনজীবীর বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, কয়েকমাস আগে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সুমনের সাথে তুলির প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালীন অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট সুমন পারিবারিকভাবে কুষ্টিয়ার হরিপুরে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার বিকেলে তুলি ওই আইনজীবীর বাড়িতে যায়। ওই বাসা থেকে সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস তুলিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসা থেকে কলেজে যান। সেখানে ৩টা পর্যন্ত ক্লাস করেন। ছুটির পরে সে আইনজীবীর বাড়িতে যান। খবর পেয়ে সন্ধ্যা আইনজীবীর বাসায় গিয়ে দেখি তুলির মরদেহ নিচতলায় একটি ভ্যানের উপর রাখা। ওই বাসার তিনতলায় আইনজীবীর ও তার লোকজন তুলিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
হত্যার পর তারা মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছিলো। তারা হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বানানোর নাটক করছে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হইলে সেখানে পুলিশ অনেক সময় কালক্ষেপ করে। সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পরও অপরাধীরা এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশের এরকম গড়িমসি কার্যক্রমে আমরা পুলিশি তদন্তের ব্যাপারে সন্দিহান। এ ঘটনায় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে আমাদের নানা অভিযোগ রয়েছে।
এমতাবস্থায় সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত আবেদন করবো আমরা।
নিহত তুলির বড় বোন জান্নাতুল তাসনিম ও তার মা শরিফা খাতুন বলেন, আমারা তুলি হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তুলিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা মামলা করেছি। পুলিশের গড়িমসিতে তাদের প্রতি আমারা অসন্তোষ। মামলাটি সিআইডি পুলিশের কাছে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছি।
সাংবিধানিকভাবে সবার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে যেটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তুলিকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ডিসি ও এসপি বরাবর স্বারক লিপি প্রদান করবো। একটি মহল এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এ মামলাটি দ্রুত সিআইডিতে স্থানান্তর করা হোক।