প্রখ্যাত যৌন অপরাধী ও মৃত আর্থিক উদ্যোক্তা জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত একটি মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের নথিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম থাকায় নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, এটি “ভুয়া খবরের ধারাবাহিকতা” ছাড়া আর কিছু নয়।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, “এই প্রতিবেদনগুলো মূলত ডেমোক্র্যাট ও উদারপন্থী গণমাধ্যমের উদ্ভাবিত চক্রান্তেরই অংশ।”
এদিকে, ফ্লোরিডার একটি আদালত এপস্টেইনের মামলার সংরক্ষিত নথি প্রকাশের আবেদন বাতিল করেছে, যা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে। নির্বাচনী প্রচারে থাকাকালে ট্রাম্প নিজেই এসব নথি প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত নথিতে ট্রাম্পের নাম একাধিকবার এসেছে, তবে এটিকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতে সামাজিক সম্পর্ক থাকা অনেক ব্যক্তির নামই ওই নথিতে রয়েছে।
আইনমন্ত্রী পাম বন্ডি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পকে জানান, নথিগুলোতে অনেকের — এমনকি ট্রাম্পেরও — বিরুদ্ধে কিছু শ্রুতিনির্ভর তথ্য রয়েছে। এতে রয়েছে শিশু পর্নোগ্রাফি ও ভিকটিমদের তথ্য, যা জনসম্মুখে প্রকাশ করা অনুচিত।
“আমার দোষ”, বলছেন জার্মানির গোলরক্ষক — নইলে ট্রাম্প কী বললেন?
ট্রাম্প নিজে অবশ্য সাংবাদিকদের বলেন, "না না, আমাকে এমন কিছু বলা হয়নি।" তাঁর মুখপাত্র স্টিভেন চিয়াং এ রিপোর্টকে সরাসরি ভুয়া সংবাদ বলে দাবি করেন।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলও জানান, “ভুয়া সংবাদমাধ্যম ও অপরাধী তথ্য ফাঁসকারীরা বারবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ছোট করতে চাইছে।”
তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক মন্তব্যে হোয়াইট হাউসের এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে, ট্রাম্পের নাম আগেই প্রকাশিত নথিতেও ছিল।
ফ্লোরিডার বিচারপতি রবিন রোজেনবার্গ বলেন, “এই মামলার নথি প্রকাশ করা গ্র্যান্ড জুরি তদন্তের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করবে।” তিনি আরো জানান, এই ইস্যু নিউইয়র্কেও হস্তান্তর করা যাবে না।
ইতিমধ্যে রিপাবলিকানদের একটি উপকমিটি বিচার মন্ত্রণালয়কে এপস্টেইন নথি প্রকাশে বাধ্য করতে ভোট দিয়েছে। এতে ৩ জন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে ভোট দিলেও, ২ জন বিরোধিতা করেছেন। তবে প্রধান চেয়ারম্যান জেমস কমার চূড়ান্ত অনুমোদন না দিলে এই আইনি পদক্ষেপ কার্যকর হবে না।
এদিকে, এপস্টেইনের সহযোগী ও বর্তমানে কারাগারে থাকা ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে ১১ আগস্ট ভার্চুয়ালি কংগ্রেসে হাজির হওয়ার জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তার আইনজীবী জানান, তিনি সাক্ষ্য দেবেন কিনা, তা নির্ভর করবে বিচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ফলাফলের উপর।
আইনমন্ত্রী বন্ডি সম্প্রতি দাবি করেন, এপস্টেইনের কোনো “অপরাধমূলক ক্লায়েন্ট তালিকা” পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে তিনি বলেছিলেন, তার কাছে “অনেক নাম” ও “ফ্লাইট লগ” রয়েছে। অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ট্রাম্পপন্থী অনেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন।
এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছে। হাউজ স্পিকার মাইক জনসন আগেভাগে কংগ্রেস ছুটি ঘোষণা করে ভোট এড়িয়ে যেতে চাইলেও, বিদ্রোহী রিপাবলিকানরা বিষয়টি সামনে টেনে এনেছে।