নারী ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিল স্পেন। বুধবার রাতে জার্মানির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় এক গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় পায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
১১৩তম মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা আইতানা বনমাতি। কঠিন লড়াইয়ের ম্যাচে এই মুহূর্তটিই হয়ে উঠেছে স্পেনের ইতিহাসের অংশ।
প্রথমার্ধ থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। তবে রক্ষণে দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তোলে জার্মানির ডিফেন্ডাররা। স্পেন অধিনায়ক ইরেনে পারেদেস একটি হেডে বল বারপোস্টে লাগালেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা পাল্টে যায় ম্যাচের ধারা। ৬৩তম মিনিটে জার্মান উইঙ্গার ক্লারা বুল স্প্যানিশ রক্ষণের পেছনে জায়গা করে নিয়েও গোলরক্ষক কাতা কোলকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন। অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার আগে ইনজুরি টাইমে বুলের একটি শট কোলকে কষ্ট করে ফেরাতে হয়।
জার্মানি, যারা এর আগে ইউরো সেমিফাইনালে ১০ বার খেলে ৯ বার জয় পেয়েছে, তারা ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় সফল হচ্ছিল। কিন্তু বনমাতির একক নৈপুণ্যে ভেঙে যায় তাদের স্বপ্ন।
ম্যাচ শেষে আবেগময় প্রতিক্রিয়ায় বনমাতি বলেন, “আমি গর্বিত। আমরা এই জয় প্রাপ্য ছিলাম। এটা কেবল ইউরো ফাইনালে পৌঁছানো নয়, বরং প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে জার্মানিকে হারানোও বটে।”
এই জয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ বনমাতির জন্য, কারণ এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি মেনিনজাইটিসজনিত স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন।
অন্যদিকে, জার্মানির গোলরক্ষক বের্গার, যিনি কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি সেভ করে দলের নায়ক হয়েছিলেন, এবার নিজেই দুঃখ প্রকাশ করেন। “গোলের সময় আমি নিকট পোস্ট কভার করতে পারিনি, আমি দায় নিচ্ছি। পুরো দল সর্বোচ্চটা দিয়েছে, আমি দুঃখিত,” বলেন তিনি।
এখন অপেক্ষা রোববারের ফাইনালের — যেখানে স্পেন মুখোমুখি হবে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের। ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই স্মরণীয় লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে বেসেলে।