মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানের সঙ্গে একটি ‘বৃহৎ’ বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, এ চুক্তির আওতায় জাপানি রপ্তানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে এবং জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করবে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনই জাপানের সঙ্গে একটি ‘বৃহৎ’ চুক্তি সম্পন্ন করেছি, যা সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি। জাপান, আমার নির্দেশে, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, যার ৯০ শতাংশ মুনাফা আমরা পাব।”
চুক্তি অনুযায়ী, জাপান যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, চাল ও কিছু কৃষিপণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি করবে। ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তির ফলে ‘লাখ লাখ’ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক সংবর্ধনায় ট্রাম্প জানান, উভয় দেশ আলাস্কায় তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) উত্তোলনে একটি যৌথ প্রকল্পেও সম্মত হয়েছে। “এটা সকলের জন্যই লাভজনক একটি চুক্তি,” তিনি বলেন।
এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেন, “চুক্তির খুঁটিনাটি আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করব, তবে আমার বিশ্বাস এটি জাতীয় স্বার্থে।” তিনি নিশ্চিত করেন, জাপানি গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ চুক্তির আগে জাপান ১০ শতাংশ ‘বেসলাইন’ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করছিল। তবে আগস্টের ১ তারিখের মধ্যে চুক্তি না হলে শুল্ক হার বেড়ে ২৫ শতাংশ হতো।
হাডসন ইনস্টিটিউটের জাপান চেয়ার-এর উপপরিচালক উইলিয়াম চৌ বলেন, “১৫ শতাংশ হারে পারস্পরিক শুল্ক অনেকটাই স্বস্তিদায়ক, তবে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে—স্টিল ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কি কোনো ছাড় রাখা হয়েছে?”
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, “এই দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রীকে আরও গভীর করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে এটি একটি নতুন ‘গোল্ডেন এজ’।”
ট্রাম্পের ঘোষণার পর বুধবার সকালে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়—মাজদা ১৭ শতাংশ, টয়োটা, নিসান ও হোন্ডা ৮.৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জাপানের শেয়ারবাজার নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৩ শতাংশ ঊর্ধ্বে উঠে।
এই চুক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং চীনের সঙ্গে একাধিক প্রাথমিক চুক্তি এবং বাণিজ্য বিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হচ্ছে জাপান। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাপান থেকে ১৪৮.২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে এবং রপ্তানি করেছে ৭৯.৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
“এই সময়ের প্রতিচ্ছবি হলো—বাজার এখন ১৫ শতাংশ শুল্কেও খুশি হয়,” বলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Annex Wealth Management-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান জ্যাকবসেন। “এক বছর আগেও এই হারে শুল্ক হলে তা সবাইকে চমকে দিত, কিন্তু এখন এটা স্বস্তির বিষয়।”