রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অন্তত ৭৮ জন। এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী চিকিৎসক মো. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, “দগ্ধদের মধ্যে অনেকেই শিশু, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সবার কাছে দোয়া চাই। রক্তের জন্য এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, পর্যাপ্ত ডোনার পাওয়া গেছে। তবে কিছু নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হতে পারে।”
সায়েদুর রহমান আরও অনুরোধ জানান, হাসপাতালে ভিড় না করতে—কারণ এতে চিকিৎসার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলার বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়ন করে চীনে তৈরি একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান। এটি ছিল একটি প্রশিক্ষণ বিমান। উড্ডয়নের মাত্র কিছুক্ষণ পরই, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল ক্যাম্পাসের একটি দোতলা ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে বিমানটি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাত্র ১২ মিনিটের মাথায়—দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইউনিট। আগুনে পুড়ে যায় স্কুল ভবনের বড় একটি অংশ। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া, আগুন, আর্তনাদ। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের করুণ আর্তনাদ এবং পাগলপ্রায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।
এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭১ জন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
সরকার ইতোমধ্যে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ।