ভারতের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বাংলাদেশের লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী ৮৯টি চরাঞ্চলের মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। পানির প্রবল তোড়ে নদী তীরবর্তী ফসলি জমিগুলো ইতোমধ্যেই আংশিকভাবে প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
রোববার (২০ জুলাই) সকাল ৬টার পর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি এই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তবে যে কোনো সময় তা বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিস্তা ব্যারাজ কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, "উজানের ঢলে পানি বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের সব কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির উপর আমাদের নজর রয়েছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এমন দুর্ভোগের মুখোমুখি হন তারা। তিস্তা পাড়ের কুদ্দুস মিয়া বলেন, "আমরা বন্যা, খরা আর নদীভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই বেঁচে আছি। ভারতের গজলডোবা ব্যারেজ থেকে যখন-তখন পানি ছেড়ে দিলে আমাদের এলাকা ভেসে যায়। বৃষ্টির পানি যতটা না, ভারতের ছেড়ে দেওয়া পানিই আমাদের জন্য বেশি বিপজ্জনক।"
তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, "পানি এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে যেহেতু উজানে ঢল নেমেছে, তাই আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।"
উল্লেখ্য, তিস্তা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে পানি ছেড়ে দিলে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার সমাধানে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন।