আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হবে চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর, এমন ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা।
মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় আয়োজিত হতে যাওয়া এই বৃহত্তম ক্রীড়াযজ্ঞের জন্য ধাপে ধাপে টিকিট বিক্রি হবে বলে জানিয়েছে ফিফা। যারা খেলা সরাসরি উপভোগ করতে চান, তাদেরকে ফিফার ওয়েবসাইটে প্রাক-নিবন্ধন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “আমরা আবারও উত্তর আমেরিকায় বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও সেরা ক্রীড়া আসর।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে ভক্তদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত আসনের প্রতিযোগিতা।”
ফিফা জানায়, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাক-নিবন্ধিত ভক্তরা প্রথম দফায় টিকিট কেনার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই ফাইনাল পর্যন্ত একাধিক ধাপে টিকিট বিক্রি চলবে। প্রতিটি ধাপে বিক্রয় প্রক্রিয়া, পেমেন্ট পদ্ধতি ও টিকিট ধরন ভিন্ন হতে পারে, যার বিস্তারিত সময় অনুযায়ী জানানো হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- উদ্বোধনী ম্যাচ: ১১ জুন ২০২৬, মেক্সিকো সিটি
- ফাইনাল ম্যাচ: ১৯ জুলাই ২০২৬, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র
- টিম সংখ্যা: ৪৮ (বর্ধিত ফরম্যাট)
- ম্যাচ সংখ্যা: ১০৪
- ম্যাচ ভেন্যু: মেক্সিকো ও কানাডায় ১৩টি করে, বাকি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে
কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল পর্যন্ত সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপকে "উত্তেজনাপূর্ণ সাফল্য" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ফিফা।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চেলসি ৩-০ গোলে পিএসজিকে পরাজিত করে, যেখানে ৮১,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তবে কিছু ম্যাচে দর্শকসংখ্যা ছিল খুবই কম, আর গরম আবহাওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎপরতাও উল্লেখযোগ্য। তিনি হোয়াইট হাউসে ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসকে স্বাগত জানান এবং নিউ জার্সির ফাইনাল ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন।
তবে, ট্রাম্পের অভিবাসননীতি ঘিরে আন্তর্জাতিক ভক্তদের যাত্রা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে, যেমন ইরান, যারা ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাই করেছে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শিরোপা জেতে, যা ছিল তাদের তৃতীয় শিরোপা এবং লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন।