ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে গাজা ও সিরিয়ায় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে ৯৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা, যার মধ্যে ৩০ জন খাদ্য সহায়তার অপেক্ষায় ছিলেন।
এদিকে, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের আশপাশে ইসরায়েল একাধিক হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে তিনজন নিহত ও অন্য অনেকে আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের এই বোমা হামলাকে “অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত” হিসেবে অভিহিত করেছে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৮,৫৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১,৩৯,৬০৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অপরদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,১৩৯ জন নিহত হয় এবং ২০০ জনের বেশি জিম্মি করা হয়।
এছাড়া, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক ২০৮৬ পৃষ্ঠার তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে অক্টোবর ৭ থেকে নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম, বয়স, লিঙ্গ ও পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়া রয়েছে। তালিকায় দেখা গেছে, ৯৫৩ জন শিশু এক বছরেরও কম বয়সে নিহত হয়েছে, যার মধ্যে অনেকে জন্মের দিনই নিহত হয়েছে।
এদিকে, সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এক ভাষণে বলেন, “যদি কেউ সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তবে তারা পরে তা অনুশোচনা করবে।”
সিরিয়ার ড্রুজ জনগোষ্ঠী নিয়ে তার বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল মাসরি। তিনি বলেন, “ড্রুজরা সিরিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।”
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি অঞ্চলবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্যালেস্টাইন ইস্যুতে কোনো পক্ষই পুরোপুরি নির্দোষ নয়।”
এছাড়া আজ রাতেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের আবু হালু স্কুলে হামলা চালিয়ে ৪ জনকে হত্যা করেছে।
অন্যদিকে, গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ইমাম শাফি স্কুলের কাছে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বোমা হামলায় আরও ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি তথ্যকেন্দ্র।