মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে গত দেড় বছরে আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার

নতুন করে দেড় লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়, সংকটে মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

আপলোড সময় : ১২ জুলাই ২০২৫, দুপুর ১০:২ সময় , আপডেট সময় : ১২ জুলাই ২০২৫, দুপুর ১০:২ সময়
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে গত দেড় বছরে আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশে পাড়ি জমিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন অঞ্চলে সংঘর্ষ ও লক্ষ্যভিত্তিক নির্যাতনের জেরে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করেছে। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজারের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নবাগতদের বড় অংশ নারী ও শিশু; এরা অধিকাংশই পরিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, এসব শরণার্থীর জীবনধারণ সম্পূর্ণভাবে ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন শরণার্থী প্রবাহের কারণে মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা তীব্র চাপে পড়েছে। নিবন্ধিতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে দাতা সংস্থাগুলো, কিন্তু যেসব রোহিঙ্গা এখনও নিবন্ধনের আওতায় আসেনি, তাদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা বাজেট সংকটে রয়েছে। নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ অব্যাহত থাকলে জরুরি পরিষেবা সরবরাহব্যবস্থা ধসে পড়তে পারে। যদি দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত না হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবায় চরম বিপর্যয় দেখা দেবে, রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমও থেমে যেতে পারে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার হুমকিতে রয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৩ হাজার শিশু সদ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠনগুলো বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে— তারা যেন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। রাখাইন রাজ্যে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাপ্রসূত প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯